বগুড়া ব্যুরো :
আলুবীজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার চুক্তিভিত্তিক আলু চাষিরা মানববন্ধন করেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহরের বিসিক শিল্প এলাকায় বিএডিসি আলুবীজ হিমাগারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, চলতি মৌসুমে বিএডিসি উৎপাদিত আলুবীজের মূল্য গ্রেডভেদে কেজিপ্রতি মাত্র ২৬-২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কম। এতে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
চাষিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বেলাল আকন্দ। তিনি বলেন, গত বছর গ্রেড অনুযায়ী আলু বীজের দাম ছিল ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ টাকা। অথচ এবার দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ সার, বীজ, কীটনাশকসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে। আমরা উৎপাদন করেছি কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়, সেখানে ২৬-২৮ টাকায় বিক্রি করতে বলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে আমরা বিএডিসি থেকে বীজ কিনেছি ৪৫-৪৬ টাকা দরে। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫৮, ৬২ ও ৭২ টাকা পর্যন্ত। অথচ উৎপাদিত বীজ বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে।
কৃষকরা জানান, চুক্তিভিত্তিক চাষে আলু বীজ উৎপাদনে ঝুঁকি বেশি, ফলন কম। খাওয়ার আলুর চেয়ে প্রতি একরে প্রায় ৯০ মণ কম ফলন পাওয়া যায়। এর পরও যদি ন্যায্য দাম না মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর এই কার্যক্রমে যুক্ত হবে না। এতে বিএডিসির নিজস্ব বীজ উৎপাদন কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়বে। চাষিরা দাবি জানান, গত বছরের দামের চেয়ে অন্তত ৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হোক, যাতে উৎপাদন খরচ ও কৃষকের শ্রমের ন্যায্যতা বজায় থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কৃষকের প্রতি সুবিচার করতে হবে। কৃষি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বিএডিসি হিমাগার বগুড়ার উপ-পরিচালক (আলুবীজ) কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা লোকসানের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন। আমরা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করবো তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































