অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন, খ্রিষ্ট ধর্মালম্বীদের শুভ বড়দিন। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বড়দিনকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে খ্রিষ্ট ধর্মালম্বীদের গ্রামগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। মাটির ঘরবাড়ীগুলোকে নানা ধরনের চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে আকর্ষনীয় দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছেন গৃহবধূরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলায় ছোটবড় ৬৩টি গীর্জা রয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে প্রত্যেকটি গীর্জার জন্য সরকারিভাবে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর সূর্য্যপাড়া নৃ-গোষ্ঠীপাড়া গিয়ে দেখা মেলে খ্রিষ্টধর্মালম্বী ক্যাথলিক মতবাদের গৃহবধূ ভেলি বাস্কের (৩২)। নিজ বসতবাড়ীর মাটির ঘরের দেওয়াল লেপার কাজে ব্যস্ত তিনি।
তিনি জানান, যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে ঘরবাড়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাসহ বিভিন্ন সাজে সাজাতে কাজ করছেন তিনিসহ গ্রামের অন্য নারীরাও। বড়দিনের সকালে গির্জায় প্রার্থনা করার পর একে অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করবেন। আপ্যায়ণ পর্বও চলবে সমান তালে। বিকেল থেকে বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে গ্রামে।
একই গ্রামের শিক্ষার্থী আন্তনিকা হেম্ব্রম বলেন, শুভ বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে বাড়ীর নারীদের যেনো কর্মব্যস্ততার শেষ নেই। বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদেরকেও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে বাড়ীর কাজে।
একই গ্রামের বসতবাড়ীর মাটিরঘরে লেপামোছার পর দেওয়ালে ফুল অঙ্কন করার কাজে ব্যস্ত খ্রিষ্টধর্মালম্বী ব্যাপটিষ্ট মতবাদের গৃহবধূ লিমা মুর্মু (১৭) বলেন, ইতোমধ্যে ঘরবাড়ী লেপার কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে ঘরের দেওয়ালে বিভিন্ন কারুকার্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রঙে ফুল অঙ্কন। বড়দিনে বাড়ীঘর আকর্ষণীয় থাকলে ঈশ্বর যিশু সেখানে আসেন এমন বিশ্বাস থেকেই বাড়ীঘর পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বিভিন্ন রঙে সাজানো হচ্ছে।
উপজেলার ৩নং কাজিহাল ইউনিয়নের কুদবীর মিশনপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আলবেনা সরেন (৩৮) বলেন, বছরে একটি মাত্র দিন শুভ বড়দিন। এই দিনে যিশুকে স্মরণ করতে এবং তার পথে চলতে গ্রামের সকলেই ঘরবাড়ী মোছামোছিসহ রংবেরংয়ে সাজানো হচ্ছে ঘরবাড়ী। এসব কিছুই করা হচ্ছে যিশুর সন্তুষ্টি লাভের আশায়।
কুদবীর চার্চ মিশনের সিস্টার ফ্লোরা পিউিিরফিকেশন বলেন, ২৫ ডিসেম্বর ঈশ্বর যিশুখ্রিষ্ট জন্মলাভ করেন। এজন্য দিনটিকে শুভ বড়দিন হিসেবে খ্রিষ্টধর্মালম্বীরা পালন করে থাকেন। বছরঘুরে বড়দিন আবহে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখ সমৃদ্ধিতে জীবনযাপন করার স্বপ্নটাই ধরা দেয় সবার প্রার্থনায়। বড়দিন শুধু বায়িজ্যিক উৎসব নয়, চাই আধ্যাতিক পরিশুদ্ধি। এ বছর বড়দিনের সকাল ৯টায় গীর্জায় প্রার্থনা এবং ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান হিসেবে আলোচনা ও প্রার্থনা পরিচালনা করবেন চার্জ মিশনের ফাদার জসিম মুর্মু।
উপজেলা দলিত ও আদিবাসী প্লাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক ক্যাথলিক মতাদর্শের অনুসারী কমল কিস্কু বলেন, পূর্বের মতোই এ বছরও খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা আনন্দময় পরিবেশে শুভ বড়দিন পালন করবেন। খ্রিস্টান পল্লীগুলো ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলায় ছোটবড় ৬৩টি গীর্জা রয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে সরকারিভাবে প্রত্যেকটি গীর্জা ৫০০ কেজি করে মোট ৩১ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহমেদ হাসান বলেন, উপজেলার ৬৩টি গির্জায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদ্যাপন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রতিটিতে ৫০০ কেজি করে মোট ৩১ টন ৫০০ কেজি চাল সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবমূখর পরিবেশে দিবসটি পালন করতে পারেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এজি
বড়দিন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে ফুলবাড়ীর খ্রিষ্ট ধর্মালম্বীদের গ্রামগুলো
ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
































