বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ায় শুষ্ক মৌসুমে করতোয়া নদীতে দুটি বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আগাম ঘোষণা ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অনেকটায় হঠাৎ করেই বাঁধ দুটি দেওয়ায় কৃষক ফুঁসে ওঠেছে। এজন্য তারা সরকারের কাছে ক্ষতি পুরণ দাবি করেছে।
করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ, খনন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তিন সপ্তাহ আগে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা ডিসি অফিসের কাছে করতোয়া নদীর মাঝে পর পর দুটি বাঁধ দেয়। এতে উজানে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া, শেখেরকোলা, রাজাপুর ও পৌরসভার ১৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের করতোয়া নদীর অববাহিকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে ৫০০ কৃষকদের
২০০ হেক্টর জমির বোরো বীজতলা ডুবে গেছে। এতে করে কমপক্ষে দুই হাজার বিঘা জমির বোরো ধানের চাষ ব্যাহত হবে এবং বাড়বে উৎপাদন খরচও।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া ডিভিশনে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুল হক নদীতে বাঁধ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকায় করতোয়া নদী খননের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। ওই কাজের অংশ হিসেবে এখন যে কাজ চলছে, তাতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের ভেতর দুটি পাইপ বসানো হয়েছে। একটি পাইপের ব্যাস ৬ ইঞ্চি, অন্যটির ৮ ইঞ্চি।’ তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই দুই পাইপ দিয়ে যেটুকু পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে, তাতে জলাবদ্ধতা দূর হবে না। ফলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।
বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল শেখ বলেন, চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুই ওয়ার্ডের প্রতি শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরিতে খরচ হয়েছে গড়ে ২ হাজার টাকা। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে সব বীজতলা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার। এ ছাড়া চাষাবাদের জন্য তাদের প্রতি বিঘার জন্য চারা কিনতে হবে প্রায় ২ হাজার টাকার।
শেখের কোলা এলাকার আরেক চাষি জয়নাল মিয়া তার পাঁচ বিঘা জমি চাষ করতে বীজতলা বানিয়েছেন ৫ শতাংশ জমিতে। কিন্তু সেই জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই দুই জন ছাড়াও ওই সব এলাকার আরও ৫০০ চাষির একই অভিযোগ- বীজতলা ডুবে গেছে।
বগুড়া সদর উপজেলার কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বাধ দেবার ফলে বিছনগুলো নিমজ্জিত হয়েছে। এখানে তারা আমাদেরকে আগে অবহিত করেনি। অবহিত করলে আমরা কৃষকদের সর্তক করতে পারতাম।
বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদ বলেন, বীজতলা যেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা রিকভার করতে ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। তারপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুর্নাঙ্গ তালিকা করা হবে। পরে উর্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বার্হী প্রকৌশলী নাজমুল বলেন, করতোয়া নদী খননের জন্য নদীতে অস্থায়ী দুটি বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হবার খবর পাওয়ার পর বাঁধ দুটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, বাঁধগুলো কেটে দেয়া হয়েছে। যাতে করে এক সপ্তাহে পানি চলে যাবে এবং বীজতলাগুলো আবার জেগে ওঠবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় হঠাৎ করেই করতোয়া নদীতে দুটি বাঁধ ২০০ হেক্টর বীজতলা নষ্ট, কৃষকদের ক্ষোভ
জানুয়ারি ১৮, ২০২৫
































