প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে নৌপথে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে করে চরের মানুষদের নানারকম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রী ও ঘাট ইজারাদারদের অভিযোগ যমুনায় শুস্ক মৌসুমে পানি কমে নাব্যতা সংকট এবং মাঝ নদীতে চর জেগে উঠায় নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যমুনার এই নদী পথে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার সহস্রাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার কালিতলা, মথুরাপুর ও ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ী ও কৈয়াগাড়ী খেয়া নৌ ঘাট থেকে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা চলাচল করছে। এসব নৌকা সারিয়াকান্দী কালিতলা, মথুরাপুর ঘাট থেকে বোহাইল, শোনপচা, ধারাবর্ষা, আওলাকান্দী, কাজলা, হাটশেরপুর, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন চলাচল করছে।
এছাড়াও ধুনটের শহড়াবাড়ী ও কৈয়াগাড়ী খেয়া নৌ ঘাট থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার নাটুয়ারপাড়া, মেখলা, জামালপুর জেলার তারাকান্দী, সরিষাবাড়ীতে প্রতিদিন নৌকা চলাচল করে আসছে। নৌ ঘাট এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় অনেক বালুপথ হেঁটে এবং এবং যমুনায় নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক ঘুরে এবং বেশি ভাড়ায় চলাচল করতে হচ্ছে নৌকাগুলোকে।
এছাড়াও চরাঞ্চলে পৌছিলেও সেখান থেকে ঘোড়াগাড়ি কিংবা বালুর চর পেরিয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে বাড়িতে। বর্ষায় দিনে দুরার যাতায়াত করা গেলেও এখন প্রয়োজনীয় কাজে এসে চরের মানুষের কেনাকাটা করে ফিরতে কিংবা মাদারগঞ্জ, তারাকান্দী, সরিষাবাড়ী ফিরতে বা আসতে দিন কেটে যায়।
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের আজাহার ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে দ্রæত নৌকায় যাতায়াত করা গেলেও যমুনার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকে চর জেগে উঠে। সে কারণেই অনেক ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। টাকা ও সময় দুটোরই অপচয় হয়। ধারাবর্ষা চরের আব্দুল হাকিম জানান, চরাঞ্চলের সব কিছু পাওয়া যায় না। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে সারিয়াকান্দী সদর কিংবা বগুড়া শহরে যেতে হয়। চর জেগে উঠায় যাতায়াতে বিড়ম্বনা ঘটছে।
ধুনটের শহড়াবাড়ী এলাকার নৌচালক নুরুল জানান, জামালপুর জেলার তারাকান্দী থেকে সার নদী পথে বগুড়াসহ আশে পাশের জেলায় সহজেই নদী পথে কম খরচে আনা হয়। কিন্তু এখন অনেক ঘুরে যাওয়ায় সময় এবং ভাড়াও বেশি লাগছে।
সারিয়াকান্দির কালিতলা খেয়াঘাটের ইজারাদার আবু সাঈদ জানান, বাধ্য হয়ে ভাড়া বেশি নিতে হয়। কারণ ছোট বড় অনেক চর পড়েছে। অনেক পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এক ঘন্টায় জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে বর্ষা মৌসুমে যাওয়া গেলেও সেখানে এখন ৪৫ মিনিট সময় বেশি লাগছে। নদী ড্রেজিং না করলে নৌপথে যাতায়াত ভবিষ্যতে দুরুহ হয়ে পড়বে। চরবাসীর ভোগান্তি বাড়বে। ধুনটের শহড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের ইজারাদার হযরত আলীও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, নদীতে চর পড়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়ায় যমুনায় বালুচর নৌযান চলাচলে বিঘ্ন
এপ্রিল ১, ২০২৪
































