প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ১৭ কিলোমিটার এবং সুবিল খালের ২০ কিলোমিটার ও অটো খালের সাড়ে ৭ কিলোমিটার খননসহ বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসপি ব্রিজ পর্যন্ত নদীর পশ্চিম পাড় দিয়ে ৭৩০ মিটার ওয়াকওয়ে (পায়ে হাঁটার পথ) নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
বগুড়া ব্যুরো ও শাজাহানপুর প্রতিনিধি :
বগুড়ায় ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টায় শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ব্রীজ এলাকায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদী পুন:খনন ও ডানতীরে ¯েøাপ প্রটেকশন কাজ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আয়োজনে খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা আলম নান্নু।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া জেলা কার্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদা আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদুর রহমান আরজু, বাপা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
এসময় ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধি হুমায়ন কবিরসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেৃতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ১৭ কিলোমিটার এবং সুবিল খালের ২০ কিলোমিটার ও অটো খালের সাড়ে ৭ কিলোমিটার খননসহ বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসপি ব্রিজ পর্যন্ত নদীর পশ্চিম পাড় দিয়ে ৭৩০ মিটার ওয়াকওয়ে (পায়ে হাঁটার পথ) নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
জানা গেছে, বগুড়া শহর অংশের ১৭ কিলোমিটারকে উন্নয়নের আওতায় এনে তা অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এই অংশের ব্যয় অনুমোদন হয়েছে ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। গত অক্টোবর মাসের শেষে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
করতোয়া এই অঞ্চলের এক ঐতিহাসিক নদী। প্রাচীন পুন্ড্র সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো এই নদীকে ঘিরেই। পরবর্তীতে বগুড়া শহর ছাড়াও শেরপুর ও গোবিন্দগঞ্জের মতো প্রাচীন জনপদ গড়ে ওঠে এই নদীতীরে। এককালের উত্তাল প্রবাহমান এই নদী এখন শীর্ণকায় এক খালে পরিণত হয়েছে। কালের স্বাক্ষী এই নদীর বগুড়া অংশের উৎসমুখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী।
পাউবো জানায়, আশির দশকের শুরুতে কাটাখালির খুলসি পয়েন্টে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়। মূলতঃ এরপর থেকেই গতি হারাতে থাকে করতোয়া। এখন কাটাখালিতে নদীর উৎস মুখের তলদেশ অনেক উঁচু হওয়ায় সেখানে পানি প্রবাহ বন্ধ। করতোয়া নদী পুণঃখনন করে নদী দুষণ রোধ, এর হারানো গতি ও সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা এই অঞ্চলের মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি। একারণেই করতোয়া নদী উন্নয়ন প্রকল্পটি হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ বছর ধরে তিন দফায় সমীক্ষা করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পর্যন্ত ১২৩ কিলোমিটার করতোয়া নদী খননসহ নদীতীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রস্তুত করা হয় একটি প্রকল্প। ‘স্মার্ট করতোয়া রিভার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি জমা পড়ার পর সেই প্রকল্প থেকে বগুড়া শহর অংশের ১৭ কিলোমিটারকে উন্নয়নের আওতায় এনে অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এই অংশের ব্যয় অনুমোদন হয়েছে ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
গৃহীত প্রকল্পের উদ্দেশ্যে সর্ম্পকে বলা হয়- নদী খননের মাধ্যমে করতোয়া রিভার সিস্টেম পুণরুজ্জীবিত করা, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দখল ও দুষণ থেকে করতোয়া নদীকে রক্ষা, নিস্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির পুণর্ভরণসহ সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস সম্পদসহ পরিবেশ এবং আর্থ সামজিক উন্নয়নসাধন, নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ৩টি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে- ইন্সটিটিউট ওয়াটার মডেলিং, সেন্টার ফর ইনভারমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন ও রিভার রিসার্চ ইন্টিটিউট সমীক্ষা পরিচালনা করে করতোয়া উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রণয়ন করে।
প্রকল্পে শুধু করতোয়া নদী খননই নয়, এতে বগুড়ার সুবিল খালসহ অন্য সংযোগ খালগুলোর প্রায় ৩১ কিলোমিটার পুণঃখনন করার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রকল্পে নদী দখল রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা বৃদ্ধি, নদী তীর সংরক্ষণ কাজসহ বগুড়া শহরের মাটিডালি থেকে বনানীর বাইপাস সড়ক পর্যন্ত নদীর দুধারে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার করে ২৭ কিলোমিটার বাঁধ কাম সড়ক ও একই দৈর্ঘ্যের পানি নিস্কাশন অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নদীর দুধারে ওয়াকিং লেন, সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামোসহ একাধিক অবকাঠামো ও মাস্ট্রার প্লানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কথাও বলা হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি জমা দেওয়ার পর গত অক্টোবর মাসে তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভায় উত্থাপন হলে শুধুমাত্র বগুড়া শহর অংশের উন্নয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হকের বলেন, মূল প্রকল্প থেকে শহর অংশের কাজের অনুমোদন করা হয়েছে।পুরো প্রকল্পটি পরবর্তীতে অনুমোদন হবে। এখন যে অংশের অনুমোদন হয়েছে তার কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামীকাল করতোয়া নদীর বগুড়ার শহরের মাটিডালি অংশে খনন কাজের উদ্বোধন করা হবে। এই অংশে খনন কাজের উদ্বোধন করবেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু। তিনি বলেন, যেহেতু নদীর নাব্যতা ফেরানোই প্রকল্পের উদ্দেশ্য একারণে পুরো প্রকল্প অনুমোদন হলে এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।
বগুড়ায় করতোয়া নদী ১৭ কিমি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
মার্চ ১৫, ২০২৪

































