বগুড়া ব্যুরো:
অবশেষে বগুড়ায় প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে আসা এক কিশোরী বাসযাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় আর কে পরিবহণের বাসচালক সোহাইল হাসান শাকিব (২৫) ও হেলপারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর ভগ্নিপতি ইউসুফ আলী (২৫) বাদি হয়ে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামী করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বাস চালক সোহাইল হোসেন শাকিব বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের জয়ন্তীবাড়ি গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা থেকে বাসচালক শাকিবকে গ্রেফতার করে।
অপরদিকে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার কিশোরী কে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাজাহানপুর উপজেলার আমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালয়ে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম শফিক। অভিযুক্ত বাস চালক সোহাইল হোসেন শাকিবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার চরকুরা গ্রামের বাসিন্দা। প্রেমিক আবু বক্করের সঙ্গে বগুড়ায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার কড্ডার মোড় থেকে আর কে পরিবহণের একটি বাসে উঠে রওয়া দেয়।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাসটি বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় পৌঁছিলে বাসের সকল যাত্রী নেমে যায়।কিন্তু বাসের চালক শাকিব ও হেলপার সৈকত প্রেমিক যুগলকে বাস থেকে নামতে বাধা দেয় এবং বাসের মধ্যে আটকে রাখে। একপর্যায়ে প্রেমিক যুগলকে ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রেমিক আবু বক্করকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর ওই কিশোরীকে চালক ও হেলপার মিলে বাসের মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রেমিক আবু বক্কর এগিয়ে গেলে বাসের চালক ও হেলপার তাকে জোরপূর্বক ঢাকাগামী একটি বাসে তুলে দেয়। এরপর বাসটি বগুড়া পর্যটন মোটেলে পিছনে অবস্থিত একটি মোটর গ্যারেজে নেয়। সেখানে বাসচালক ও হেলপারের সঙ্গে আরও কয়েকজন দেয়।
এ ঘটনা কাউকে না বলতে তারা কিশোরীকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। অবশেষে তারা ওই বাসে করেই কিশোরীকে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে ঢাকাগামী একটি বাসে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওই কিশোরী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজনকে ঘটনাটি বলে দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় পুলিশি তৎপরতা।
আমন্ত্রণ/এসিজি

































