ফুলবাড়ী সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শুকিয়ে গেছে ফসলি জমির পানি। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম, শ্রাবণেও দেখা মিলছে না বৃষ্টি। আমন চাষের ভরা মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। অনেকে বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে জমিতে চারা রোপন করছেন। পেটের দায়ে কাজে বের হলেও মাঠের কাজে কাহিল কৃষি শ্রমিকদের। এদিকে এখনও চারা রোপনের পর্যাপ্ত সময় রয়েছে জানিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জনের আশা ব্যক্ত করেছে উপজেলা কৃষি দপ্তর।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রোদে খালবিল ও ফসলি জমির পানি শুকিয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক সেচপাম্প ও ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপন করছেন অনেকে। কেউ আবার খেতের ফসল বাঁচাতেও জমিতে সেচ দিচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে আমন আবাদ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
উপজেলার শাহবাজার এলাকার কৃষক ফরিদ উদ্দিন জানান, এবারে চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে গিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাকে। খরায় আমন চাষের জমিতে একফোঁটা পানিও নেই। এদিকে বীজতলায় চারার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে সেচপাম্প চালু করে জমিতে চারা রোপন করছেন। চারা রোপনের দশদিন পেরিয়ে গেছে। তব্ওু দেখা নেই বৃষ্টির। এখন খেতের ফসল বাঁচাতে টানা সেচ দিতে হচ্ছে তাকে। সেচ দিয়ে আবাদে বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হচ্ছে বলে জানান এই কৃষক।
একই এলাকার কৃষক সফিয়ার রহমান জানান, তিনি আঠারো বিঘা জমিতে আমন আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কয়েকদিন আগে বন্যার পানিতে তার সমস্ত আবাদি জমি ডুবে ছিল। পানি নেমে যাওয়ার পরে দেখা দিয়েছে খরা। এতে তার আমন আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদে জমিতে হালচাষ করা দুরূহ হয়ে গেছে।
পূর্ব ধনিরাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ শেষ করেছেন। সাড়ে তিন বিঘা জমিতেই সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা রোপনের করতে হয়েছে। চারা রোপনের পর এখন পর্যন্ত দুই দফায় খেতে সেচ দিয়েছেন। অচিরেই বৃষ্টি না নামলে এবার আমন আবাদে লোকসানের শঙ্কার কথা জানান তিনি।
ঘোগারকুটি এলাকার কৃষক মজিবর রহমান জানান, তিনি বারো বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে বীজতলায় চারা প্রস্তুত করেছেন। এদিকে খরায় তার সমস্ত আবাদি জমির পানি শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে তিনি এখন পর্যন্ত জমিতে চাষই দিতে পারেননি। দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে জমিতে সেচ দিয়ে চারা রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঘোগারকুটি এলাকার কৃষিশ্রমিক আশরাফুল আলম জানান, তিনি সহ দশজন শ্রমিক মিলে একটি দল তৈরি করেছেন। মাঠে ধানের চারা রোপনের কাজে গিয়ে রোদ আর গরমে তারা মাঠে টিকতেই পারছেন না। তার দলের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোদ আর গরম উপেক্ষা করে কৃষকরা জমিতে চারা রোপন চলমান রেখেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপন করা হয়েছে। এখনও চারা রোপনের পর্যাপ্ত সময় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জনের আশা ব্যক্ত করেন।
আমন্ত্রণ/এজি


































