রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফুল গাছের চারা বেচেই লাখ টাকা আয় করছেন আমিনুল ইসলাম। আমিনুল ইসলাম ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের হাইফাই মোড়ের বাসিন্দা এবং কেএম নার্সারীর স্বত্বাধিকারী। ফুল গাছের চারার পাশাপাশি অন্যান্য ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন লাখ টাকা। শীতকালে ফুলের ওপর নির্ভর করলেও পাশাপাশি অন্যান্য ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারাও বিক্রি করেন বছরজুড়ে। আর এই নার্সারি থেকে আয়কৃত অর্থেই চলে তার সংসার। রিকশাভ্যানে করে হরেক বাহারী ফুলের চারা নিয়ে উপজেলা পরিষদ রোডে ঘুরে দেখা যায় মমিনুল ইসলামকে। তিনি নিজেই নিজের চারাগুলো ভ্যানে নিয়ে খুচরা মূল্যে বিক্রি করেন ক্রেতাদের কাছে।
দেখা যায়, রিকশা ভ্যানের ওপর বাহারী ফুলের গাছের চারার পসরা সাজিয়েছেন। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপী, বেগুণী কি রং নেই সেই পসরায়? সব রং দিয়ে যেনো সাজিয়ে তোলা হয়েছে এক রংধনুর মেলায়। ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন সেই ভ্যানকে লক্ষ্য করে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় করতে দেখা যায় নারীদেরকে। জানা যায়, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথমদিকে দেশি গোলাপ, বিদেশি গোলাপ, চাইনিজ গাঁদা, হাইব্রিড গাঁদা, দেশি গাঁদা, বর্ষালী গাঁদা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, জবা, গেটফুল, চন্দ্রমলিস্নকাসহ নানা জাতের ফুলগাছের চারা উৎপাদন করেন মমিনুল ইসলাম। ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এসব ফুলের চারা বিক্রি হয়।
কে এম নার্সারির স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম বলেন, আগে কৃষি কাজ করতেন। পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ গ্রামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। পরে সেখানে দেশি-বিদেশিসহ নানা প্রকার ফলজ-বনজ, ওষুধি ও ফুলের চারা উৎপাদন করেন। ধিরে ধিরে নার্সারির প্রসার ঘটে। বর্তমানে নার্সারি দিয়েই প্রতিবছর লাখ টাকা আয় করছেন। নার্সারি থেকে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতারা গাছের চারা নিয়ে যান পাইকারি দামে। বর্তমানে নার্সারির বড় অংশ জুড়ে ফুলের চারায় ভরপুর। নিজেও ভ্যানে নিয়ে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গিয়ে খুচরা মূল্যে গাছের চারাগুলো বিক্রি করেন। ফুলের গাছের চারাগুলো প্রকার ভেদে পাইকার মূল্য ৭ টাকা থেকে ১৮০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে খুচরা বিক্রিতে লাভ বেশি হচ্ছে। এবছর কম করে হলেও দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ফুলের চারা গাছ বিক্রি হবে। এছাড়াও নার্সারিতে বছরজুড়ে ফুলের পাশাপাশি মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদন করে পাইকার ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করেন। ফুলের চারা ক্রেতা সানজিদা পারভিন, মানতাশা মুমু ও মলি আক্তার বলেন, বাড়ীর আঙিনা বা ছাদজুড়ে ফুলের গাছে ভরপর। প্রতিবছর এসময় ফুলের চারা কিনে লাগানো হয়। গাছগুলো বাড়ীর সৌন্দর্য শতগুণে বাড়িয়ে তোলে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রম্নম্মান আক্তার বলেন, কৃষি অফিস থেকে সব নার্সারি মালিকদের বিভিন্ন সময় উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়। উপজেলার কৃষি বৃক্ষমেলায় তারা নিজ নিজ স্টল নিয়ে আসেন।
ফুলবাড়ীতে ফুলের চারা বেচেই লাখ টাকা আয়!
মার্চ ১১, ২০২৪
































