রীতা রানী কানু :
মাহে রমজানের একদিন আগেই গত তিন দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দু-একটি সবজি পণ্য বাদে প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা। তবে কমেছে দু-চারটি সবজি পণ্যের দাম। দাম বাড়ার বিষয়ে পাইকারী সবজি বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কম থাকাসহ মোকামে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও দাম বেড়েছে।

সোমবার (১১ মার্চ) সকালে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পাইকারী ও খুচরা সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা দরে। অথচ গত শনিবার (৯ মার্চ) একই আলু বিক্রি হয়েছে ১৬ টাকা কেজিদরে। একইভাবে ২৮ টাকার সাদা পাটনাই আলু বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়, ২৩ টাকার লাল পাটনাই ২৭ টাকা, ৩৫ টাকার বিলাতি ৪৫ টাকা, ৮০ টাকার পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, ১০০ টাকার রসুন ১৩০ টাকা, ৩০ টাকার কাঁচা মরিচ ৫৫ টাকা, ১৯০ টাকার আদা ২০০ থেকে ২১০ টাকা, ৩০ টাকার বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ১০ টাকা পিচের ফুলকপি ২০ টাকা ও ৪০ টাকার খিরা ৪৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৩৪০ টাকার শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়, ২০০ টাকার করলা ৮০ টাকা, ২২০ টাকার সজনা ১৪০ টাকা, ৩০ টাকার গাজর ২০ টাকা, ৪০ টাকার টমেটো ২৫ টাকা, ৬০ টাকার শিম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফুলবাড়ী পৌর এলাকার খুচরা সবজি বাজারে বাজার করতে আসা আবুল হোসেন বলেন, দুই-তিন আগেও কার্ডিনাল আলু ১৬ টাকা কেজিদরে কিনতে পারলেও আজ সোমবার সেই আলু এখন কিনতে হচ্ছে ১০ টাকা বেশিতে ২৬ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দাম হলেও আবারো বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। এভাবে রমজান মাসে শাক-সবজির দাম বাড়তে থাকলে গরীব মানুষের জন্য টিকে থাকায় দায় হয়ে যাবে। হোটেল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, দু-চারদিন পর পর শাক-সবজির দাম ওঠানামা করার জন্য হোটেল ব্যবসা টিকে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। দুইদিন আগেও সবজি পণ্য যে দামে পাওয়া গেছে আজ সোমবার ওইসব সবজি কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম হেরফের হওয়ার জন্য হোটেলের খাদ্যদ্রব্য ঠিকঠাক রাখা যাচ্ছে না। খুচরা সবজি বিক্রেতা মো. মন্টু ও শাহাজামাল, বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের হাতে কিছুই নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। পাইকারী বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ে, আবার পাইকারী বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও দাম কমে আসে। পাইকারী সবজি বিক্রেতা শামসুল ইসলাম ও মিলন মিয়া, বলেন, মোকামে দাম বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় প্রায় সবগুলো সবজির দামই বেড়েছে। তবে মোকামে দাম কমলে এবং সবরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, রমজান মাসে যাতে নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিভাবে না বাড়ে সেজন্য সভা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে।
ফুলবাড়ীতে তিনদিনের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়ে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা
মার্চ ১১, ২০২৪
































