অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার। এ জাল দিয়ে ছোট যমুনা, তিলাই ও ইছামতি নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিল, ডোবা, জলাশয়ে বসিয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
এলাকার কিছু অসাধু মৎস্য শিকারী উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে শিবনগর ইউনিয়নের পুরাতনবন্দর, দাদপুর, মালিপাড়া, ত্রিমোহনী, বেলতলীসহ খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার।
এছাড়া বিভিন্ন নিচু জমি, ধানের জমি, খাল-বীল ও জলাশয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়ে মাছের প্রজনন মৌসুমে ডিম দেয়া মা মাছসহ পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের বিস্তার হুমকির মুখে পড়েছে। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা প্রচলিত পদ্ধতিতে টিকতে না পেরে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, লোহার রিংয়ের সাথে মিহি সুতোয় তৈরি জালে আটকা পড়ে শুধু মাছই নয়, মারা পড়ছে শামুক-ঝিনুক, সাপ, কাঁকড়া-ব্যাঙ, কুচিয়াসহ অসংখ্য জলজ প্রাণি। এতে মিঠা পানির দেশীয় মাছ বিলুপ্তসহ জীববৈচিত্র চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার পুরাতনবন্দর, দাদপুর, মালিপাড়া, ত্রিমোহনী, ¯øুইচগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট যমুনা নদীতে বসিয়ে রাখা হয়েছে জাল। নদীর দু’কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ২০-৩০টি জাল দিনে রাতে বসানো হয়। ৫০ থেকে ৬০ মিটার দৈর্ঘের মাছের সর্বগ্রাসী চায়না দুয়ারী এই জাল পানির নিচে বসানো থাকে বলে ওপর থেকে বোঝার উপায় থাকে না। তবে কম পানিতে বসানো জাল দেখা যায় ও পুতে রাখা খুঁটির অবস্থান দেখে বোঝা যায়।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৎস্যজীবী কেরু মহন্ত বলেন, কিছু দিন আগেও নদীতে অনেক মাছ ছিল। মাছ ধরেই সংসার চলতো। চায়না দুয়ারী জালের কারণে নদীতে আর মাছ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছি। এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছি। আমার মত এই এলাকার অনেকে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার বলেন, নদী-নালা, খাল, বিলের মিঠা পানিতে ২৬০ প্রজাতির ও সাদু পানিতে ২৫৩ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এরমধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে, যারমধ্যে ৯ প্রজাতির মাছ অতিবিপন্ন। ৩০ প্রজাতির মাছ বিপন্ন, ২৫ প্রজাতির মাছ শঙ্কাগ্রস্থ। দেশী প্রজাতির মাছ বিপন্ন হওয়ার পিছনে পানি দুষণসহ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহারও এর অন্যতম কারণ।
চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য অফিস কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ জাল রাতে বসানো হয় বলে এদের প্রতিহত করা যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসাহাক আলী বলেন, মা ও পোনা মাছ রক্ষায় মৎস্য অফিসের সাথে সমন্বয় করে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বিধিমোতাবেক আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































