অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও চন্দ্রনাথ গুপ্ত :
দুই সপ্তাহ থেকে আকাশ ফেটে আগুন পড়ছে। সারাদিনে তিন ঘন্টাও কারেন্ট থাকছে না। মটারওয়ালা (সেচ পাম্পের মালিক) খেতে পানি দিতে পারছে না। সেচের অভাবে ধানখেত শুকে যাচ্ছে। পোকামাকড় ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এজন্য ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন বসিয়ে খেতে পানি নিতে হচ্ছে। এতে এ বছর একই জমিতে সেচের দ্বিগুণ খরচ বহন করতে হচ্ছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মাঠে শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে কথাগুলো বলছিলেন ওই গ্রামের বোরো চাষি যোতিশ চন্দ্র রায়। তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বোরো ধান খেতকে রক্ষার জন্য তিনি শ্যালো মেশিনে ঘন্টা চুক্তিতে খেতে সেচ দিচ্ছিলেন। ওই মাঠে বোরো খেতে সেচ দিচ্ছিলেন ঘুঘুজান কৃষক গ্রামের রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে ধান উঠা পর্যন্ত মটর দিয়ে পানি দেওয়ার জন্য সেচ পাম্পের মালিককে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। কিন্তু এবার সেই খরচ দুই হাজার টাকারও বেশি পড়বে। কারেন্ট থাকে না, এজন্য দুইদিন পর পর ২০০ টাকা ঘন্টা চুক্তিতে দুই ঘন্টা করে পানি দিতে হচ্ছে বোরো খেতে। এরপরও খেত শুকে যাচ্ছে।
উপজেলার এলুয়ারি গ্রামের কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, এ বছর এক একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ধান কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত তার সেচ খরচ বাবদ ছয় হাজার টাকা এবং কীটনাশক বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু দাবদাহের কারণে খরচ বেড়ে গেছে। এবার গতবারের চেয়ে সেচ খরচে প্রায় দুই হাজার ও কীটনাশক খরচ এক হাজার টাকা বেশি পড়বে।ৎ
চলমান তাপপ্রবাহে যোতিশ চন্দ্র রায়, রফিকুল ইসলাম ও মোক্তার হোসেনের মতো ফুলবাড়ী উপজেলাতে হাজারো কৃষক চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কৃষকরা বলছেন, তাপপ্রবাহ ‘হিট শক’ ও বস্নাস্ট সংক্রমণ যাতে না হয়, সেজন্য ঘন ঘন সেচ ও ওষুধ ছিটাতে হচ্ছে বলে গত বছরের চেয়ে উৎপাদন খরচ বাড়বে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো চাষ মৌসুমে উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ১৭৯ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯২ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন। কৃষকরা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো চারা রোপণ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহের বিরুপ প্রভাব থেকে ফসলের খেত রক্ষা করার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদেরকে খেতে সেচ ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কৃষকরা অনেক সচেতন, তাই তারাও মাঠে বোরোধান খেতসহ অন্যান্য ফসল রক্ষায় সব ধরনের চেষ্টা করছেন।


































