বগুড়া ব্যুরো:
পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৮৫৫ প্রজাতির পাখি পরিযায়ী। এই পরিযায়ী পাখির মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ৯ প্রজাতির পাখি গ্রীষ্মে এ দেশে আসে এবং শীতে চলে যায়। বাকি ২৯০ প্রজাতির পাখি শীতে আসে এবং গ্রীস্মের আগে এ দেশ থেকে চলে যায়। উত্তর গোলার্ধে এই অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হয় না। তাই ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, সাইবেরিয়া ও চীন থেকে পরিযায়ী পাখিদের একটা অংশ বাংলাদেশে আসে। শীতকালে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে তারমধ্য বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারের শামুকখোল পাখি কলোনিটি উল্লেখযোগ্য। যা তীরের সদস্যরা দেখাশুনা করে আসছে। কিন্তু দিনে দিনে এই পাখি কমে যাওয়ায় প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘পাখিবান্ধব নগর ও সম্প্রদায় গঠন। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিযায়ী পাখিদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর এবং সম্প্রদায় গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ও প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে।
বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস উপলক্ষে আজ রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার হাটে এক আলোচনাসভার বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ (তীর) আয়োজনে আলোচনা সভা ছাড়াও শোভাযাত্রা করা হয়।
তীরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আশা মনির সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, তীর বিহার হাট আঞ্চলিক শাখার উপদেষ্টা আব্দুর রাজ্জাক, তৌফিক হাসান হিমু, তীর বিহার হাট আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা জয়।
আলোচনাসভায় তীরের সভাপতি আশা মনি বলেন, পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি পরিযায়ী পাখি শিকার করেন তাহলে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
তীর বিহার হাট আঞ্চলিক শাখার উপদেষ্টা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিযায়ী পাখিদের সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৬ সাল থেকে এই দিবসটি পালন শুরু করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । এ কারণে পরিযায়ী পাখিরা মারাত্মক খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়েছে । তাছাড়া এই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও শিকারের কারণে প্রতিবছর প্রচুর পরিযায়ী পাখিসহ দেশীয় পাখি মারা পড়ে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’(তীর) জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ২০১১ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য সংগঠনটি ২০২১ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরুষ্কারে ভূষিত হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি

































