আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
একদিকে যমুনা নদী, অন্যদিকে মানুষের শেষ সম্বল। চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীপাড়ের চিত্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা ঠিকানা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনাপাড়ের মানুষ।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার শহড়াবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় অব্যাহত রয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে ওই এলাকায় প্রায় ৬০০ মিটার নদীতীর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নদীপাড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হলেও থামছে না নদীর আগ্রাসন। একের পর এক পাড় ভেঙে পড়ায় নতুন নতুন এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়েছে। কেউ শেষ সম্বল হারিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন, আবার কেউ নিজের হাতে গড়া ঘরবাড়ি চোখের সামনে নদীতে বিলীন হতে দেখছেন। যে উঠানে একসময় শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর থাকত, সেখানে এখন যমুনার ঢেউ। যে জমিতে ফলত সোনালি ফসল, সেটিও চলে গেছে নদীগর্ভে।
ভাঙন ঠেকাতে গত তিন মাস ধরে নদীপাড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভাঙন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাড়ের নতুন নতুন অংশ।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে যমুনার তীর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে শহড়াবাড়ি নৌবন্দরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীপাড়ের মানুষের কাছে যমুনা এখন শুধু একটি নদী নয়, প্রতিদিন হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্কের নাম।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখানে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যমুনা নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি
ধুনটে যমুনার শহড়াবাড়ি নৌবন্দরে ভয়াবহ ভাঙন, তিন মাসে বিলীন ৬০০ মিটার
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬






























