আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ব্যবসায়ী রাসেল আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিন্টু মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (২২ জুন) দুপুর ২টায় ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরআগে শনিবার রাতে ধুনট শহর এলাকা থেকে মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। মিন্টু মিয়া ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভারণশাহী গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে এবং নিহত রাসেলের স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভরণশাহী গ্রামে আবু রায়হান সোনার ছেলে রাসেল আহম্মেদ ধুনট হাইস্কুল মার্কেটে ইন্টারনেট এক্সেসরিজ ও ব্রডব্যান্ড ক্যবলের ব্যাবসা করতো। প্রেমের সম্পর্ক থেকে প্রায় ১৫ মাস আগে রাসেল ধুনট পৌর এলাকার দক্ষিন অফিসার পাড়ার লুৎফর রহমানের মেয়ে নাদিরা খান প্রেমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর রাসেল স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরের বাসার কাছে অন্য একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। সাংসারিক প্রয়োজনে রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি বিভিন্ন সময়ে নাদিরা খান প্রেমার মাধ্যমে রাসেলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেয়।
এদিকে রাসেলের স্ত্রী নাদিরা খান প্রেমা ধৃত আসামি মিন্টু মিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। রাসেল পরকীয়ার বিয়টি টের পাওয়ায় স্ত্রীর সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টায় রাসেল পাওনা ১০ লাখ টাকার জন্য শ্বশুরের বাসায় যায়। সেখানে পাওনা টাকা না দিয়ে রাসেলকে তারা নানা ভাবে নির্যাতন করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল তার ভাড়া বাসায় পৌছে পরের দিন ২৭ মে সকাল সাড়ে ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে কষ্টের কথা জানিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সময় ওই বাসায় অন্য কেউ ছিল না।
এ ঘটনায় নিহত রাসেলের বাবা আবু রায়হান সোনা বাদি হয়ে ১জুন আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় নাদিরা খান প্রেমা তার মা, বাবা, ভাই ও পরকীয়া প্রেমিক মিন্টু মিয়া সহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর নাদিরা খান প্রেমা ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই অমিত হাসান মাহমুদ বলেন, এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































