আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে অবস্থিত একটি অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুই কৃষকের প্রায় দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ‘মেসার্স গ্রামীন ব্রিকস’ নামের ওই ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় তাদের ধানের গাছ লালচে হয়ে গেছে, পাতাগুলো কুঁকড়ে গেছে এবং অধিকাংশ ধানই চিটায় পরিণত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় তো উঠবে না, বরং লোকসানের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন তারা। ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার (৩০ এপ্রিল) ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩০ শতক জমি) ও ইসমাইল হোসেন (২৮ শতক জমি)। তাদের দাবি, মাত্র ১০-১২ দিনের মধ্যে ধান কাটার সময় ছিল। এর মধ্যেই ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসল একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন ফসলি জমির মাঝখানে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাটি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। প্রতি বছরই এর কারণে কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তবে এবারের ক্ষতির মাত্রা বেশি।
এক অভিজ্ঞ কৃষিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইটভাটা বন্ধ করার সময় সব চুল্লি একসাথে নিভিয়ে ফেললে চিমনি দিয়ে প্রচুর সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। এই ভারী গ্যাস বাতাসে মিশে যেতে না পেরে দ্রুত নিচে নেমে গাছের পাতা ও কাণ্ডে ঢুকে ক্ষতি করে। এই ধরণের গ্যাস গাছের সবুজ কোষ ধ্বংস করে দেয়, ফলে গাছ শুকিয়ে যায় এবং ধানের শিষ পরিণত হয় চিটায়।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে ভাটা মালিকদের পক্ষে গোবিন্দপুর গ্রামের গোলাম রব্বানী বলেন, “ধানের ক্ষতির সঙ্গে ভাটার কোনো সম্পর্ক নেই। ধান পেকে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। বরং পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তবে কৃষকেরা বলেন, “আমরা ইটভাটার কারণে প্রতি বছরই ক্ষতির শিকার হচ্ছি। এবার ধান চিটা হয়ে গেছে। সরকার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমরা পথে বসব।”
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ছামিদুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতির বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। গণশুনানির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমন্ত্রণ/এসিজি


































