মো. ইউসুফ আলী, বিশেষ প্রতিবেদক, দিনাজপুর :
দিনাজপুরে বিজিবির বিশেষ অভিযানে কোটি টাকার দুষ্প্রাপ্য প্রত্নবস্তু উদ্ধার; পাচারের আগেই উদ্ধার কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, বিষ্ণু ও বেলে পাথরের মনসা মূর্তি। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
রোববার (৫ জুলাই) রাত ২ আড়াইটায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি বাড়ি থেকে ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের একটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে ভোর ৫ টায দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় অপর একটি বাড়ীতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ১৩ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের মূল্যবান বেলে পাথরের একটি মনসা মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন’ অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, বিষ্ণু মূর্তি এবং বেলে পাথরের মনসা মূর্তির মোট সিজার মূল্য ১,৫৭,০৫,০০০/- (এক কোটি সাতান্ন লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য অপরিমেয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
আমন্ত্রণ/এজি
দিনাজপুরে বিজিবি’র অভিযানে দেড় কোটি টাকা মূল্যের প্রত্নবস্তু উদ্ধার
জুলাই ৬, ২০২৬
































