দিনাজপুর সংবাদদাতা :
দিনাজপুরে ভালো ফলন ও ভালো দামের কারণে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলার ১৩টি উপজেলার সব এলাকায় কমবেশি কলার চাষ করা হয়। এর মধ্যে জেলা সদর, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, কাহারোল ও বিরল উপজেলায় চাষের পরিমাণ ৬৫–৭০ শতাংশ।
শ্রাবণ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত তিন মাস ধরে গাছ থেকে কলা কাটা হয়। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড় উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট হিসেবে পরিচিত। নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে চাষিরা এখানে কলা নিয়ে আসেন।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সকাল ৮টার মধ্যে কলা ক্রয় শেষ করে নেন। হাটে মেহেরসাগর, মালভোগ, চিনি চাম্পাসহ বিভিন্ন জাতের কলা পাওয়া যায়। মেহেরসাগর কলার খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এ বছর দিনাজপুরে এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানান, অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। দশমাইল হাটের ইজারাদার জানান, মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৭০–৮০ লাখ টাকার কলা বিক্রি হয়, প্রতিদিন ১৬–২০টি ট্রাক লোড চলে।
কাহারোলের কলাচাষি আব্দুল মালেক বলেন, তিনি ৪৮ শতক জমিতে চাষ করা কলার কাঁদি দশমাইল হাটে ৬২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আরেক চাষি রাজিব জানান, সাড়ে চার বিঘা জমিতে চাষ করা কলার প্রতি কাঁদি বিক্রি হয়েছে ৪৫০–৬০০ টাকায়।
কলাবাজারের বিক্রেতা সানোয়ার হোসেন বলেন, “এই হাটে ফরমালিন ব্যবহার হয় না। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে আসে এবং কলা ক্রয় করে।”
অপর চাষি সাজ্জাদ হোসেন শিহাব বলেন, “দশমাইল কলার হাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম। প্রতিদিন কোটি টাকারও বেশি কলা বেচা হয়। রাস্তাঘাট পাকা হওয়ায় সরাসরি বাগান থেকে ট্রাক লোড করা সম্ভব হচ্ছে।”
উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “এ বছর কলার আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ হেক্টর বেশি। ১৩৩৭ হেক্টর চাষের বিপরীতে উৎপাদিত কলার বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এটি স্থানীয়ভাবে বাজারজাত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কলার চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।”
আমন্ত্রণ/এসিজি
দিনাজপুরে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বেচাকেনা
আগস্ট ৩০, ২০২৫
































