প্রদীপ মোহন্ত ও আবদুর রাজ্জাক আশিক, বগুড়া :
বগুড়ায় ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতেবিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন নারী পুরুষ শিশু কিশোররা। এতে জমে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ায় বিনোদন কেন্দ্রেগুলোর মধ্য রয়েছে শহরে ওয়ান্ডার ল্যান্ড পার্ক, শহরতলীর নওদাপাড়ায় মমইন বিনোদন পার্ক। এছাড়াও শহরের বাইরে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে প্রাচীন বাংলার রাজধানী আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ পুন্ডনগরী মহাস্থানগড়, বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর খ্যাত গোকুল মেধ, রাজা পরশুরামের বাড়ি, দুধপাথর, জিয়ৎকুন্ডু, জাহাজঘাটা, গোবিন্দ ভিটা, মহাস্থান প্রতœতাত্তি¡ক জাদুঘর, ভাসুবিহার, বিহার নরপতির ধাপ সবখানেই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। এর বাইরে রয়েছে সারিয়াকান্দির যমুনার নদীর চরাঞ্চল, কালিতলা গ্রোয়েন, প্রেম যমুনার ঘাট, হার্ডপয়েন্ট কানায় কানায় ভরে ওঠে দর্শনার্থীদের পদচারনায়।
এর মধ্যে সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর কালিতলা হার্ড পয়েন্ট, প্রেম যমুনার ঘাটসহ নদী তীরে উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষের পদচারনায় পুরো উপজেলা মুখর হয়ে উঠে। এসব এলাকায় মেলা বসেছে। শুধু নদীর সৌন্দর্য উপভোগ নয়; নৌকায় নদীতে ভ্রমণ, নদী তীরে বসানো নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলনা নির্মল আনন্দ দিচ্ছে। শহরের বাহিরে ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়, সান্তাহারে সখের পল্লী, ওয়ান্ডার ল্যান্ড, শিবগঞ্জের বিউটি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা। ছোট বড় সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের দিন দুপর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে এসব বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। এদিকে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র গরমে অস্বস্তির কথা জানালেন ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা বিনোদনপ্রেমীরা।
গত তিন দিনে বিপুল সংখ্যক পর্যটক বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে ভিড় করেছেন। তারা মহাস্থানগড়, জাহাজঘাটা, বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর খ্যাত গোকুল মেধ, রাজা পরশুরামের বাড়ি, দুধপাথর, জিয়ৎকুন্ডু, জাহাজঘাটা, গোবিন্দ ভিটা, মহাস্থান প্রত্নত্বাত্তিক জাদুঘর, ভাসুবিহার, বিহার নরপতির ধাপ দেখতে ভিড় করছেন।
মহাস্থান গড়ে বেড়াতে আসার শিবগঞ্জের দাঁড়িদহ এলাকার গৃহবধূ আনজুয়ারা বেগম বলেন, ঈদের দিন ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগে না তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছি।
মহাস্থান প্রতœতাত্তি¡ক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় এবার দর্শনার্থীদের চাপ রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মহাস্থান গড়ের প্রত্মস্থল বেরিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ঈদের দিন মহাস্থান জাদুঘর বন্ধ ছিল। তবে অন্য সবগুলো প্রতœসাইট খোলা ছিল। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার থেকে জাদুঘর খোলা রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের নিজস্ব আনসার বাহিনী সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে।
সারিয়াকান্দিতে কালিতলা হার্ড পয়েন্টে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন, বগুড়া শহরের বনানী এলাকার ব্যবসায়ী আজমল হোসেন। তিনি জানান, এবারের ঈদে ছুটি বেশি। তাই স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। শ্যালোচালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুঘণ্টা যমুনা নদীতে বেড়িয়েছেন। পরিবারের সবাই অনেকদিন পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও সুন্দর সময় কাটিয়েছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এলাকার নবদম্পতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবদুর রহমান ও তাবাসুম মনিরা মোটরসাইকেলে সারিয়াকান্দির প্রেম যমুনা ঘাটে এসেছেন। মোটরসাইকেল গ্যারেজে রেখে নৌকায় যমুনা নদীতে বেড়িয়েছেন।
কলেজছাত্রী তাবাসুম মনিরা বলেন, তিন মাসের দাম্পত্য জীবনে এটা তার সেরা বিনোদন। নৌকায় যমুনা নদীতে ভ্রমণ ও নদীর তীরে খালি পায়ে হাঁটার কথা অনেকদিন মনে থাকবে।
শিবগঞ্জের গুজিয়া গ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মানুষের জীবন যান্ত্রিক হয়ে গেছে। তাই একটু বিনোদনের জন্য কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সারিয়াকান্দিতে এসেছেন। নৌকায় ভ্রমণ ও নদীতে হাঁটা করে অনেক শান্তি পেয়েছেন।
শ্যালো নৌকার মাঝি সাইদুল ইসলাম জানান, কয়েক বছরের মধ্যে এবার ঈদুল আজহায় তিনদিন যমুনা নদীর কালিতলা হার্ড পয়েন্ট, দীঘলকান্দি প্রেম যমুনার ঘাটসহ অন্যান্য এলাকায় বিপুল সংখ্যক নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করেন। পর্যটকদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যায় বেশি। তাদের অনেকে নবদম্পতি। যাত্রী বেশি হওয়ায় প্রতিদিন আড়াই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়েছে।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি জামিরুল ইমলাম জানান, ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন ঘাট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এদিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বানিয়াজান স্পারটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে। বছরের অন্যান্য সময়েও এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, তবে ঈদকে কেন্দ্র করে এই এলাকাটি যেন পরিণত হয় মিলনমেলায়।
বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটিতে দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন যমুনা পাড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে। প্রচÐ রোদের তাপ উপেক্ষা করেও দুপুরের পর থেকেই জমতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। তবে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী ও নাট্যটাকার লেখক কবি জাহিদ সাগর বলেন এই স্পারের দু পাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বৃক্ষ রোপন ও বসার ব্যবস্থা করলে অনেক সুন্দর হবে।
কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তুলছেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ তীব্র গরমের মধ্যে ঠান্ডা আইসক্রিম কিংবা মুখরোচক ফুচকা খেয়ে প্রশান্তি নিচ্ছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নদীর বুকে নির্মল হাওয়া মিলিয়ে বানিয়াজান স্পারটি ঈদের ছুটিতে হয়ে উঠেছে আনন্দ-বিনোদনের এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে বগুড়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলো
জুন ১০, ২০২৫
































