বগুড়া ব্যুরো :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এতে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন৷
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ করতোয়ায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করা হয়। এসময় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম, জেলা প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়ার তিনটি আসনে মোট ১৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সাতটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এরপর ১২টি মনোনয়ন বৈধ্য ঘোষণা করা হয়। বাতিল মনোনয়নের মধ্যে বগুড়া-১ আসনে ২টি, বগুড়া-২ আসনে ৪টি, এবং তিন আসনে ১টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপির ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গোলমাল থাকায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার শর্তানুযায়ী তিনি এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সেই তালিকায় ভোটারদের স্বাক্ষর ও তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও এই আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্য গড়মিল থাকায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ তাঁর হলফনামায় সম্পদের বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এই অসংগতির কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে৷ এছাড়াও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও এই আসনের সাবেক প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। তথ্যে অসংগতি ও অস্পষ্টতা থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্রটিও বৈধ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এছাড়াও বগুড়া-৩ (আদমদীঘি–দুপচাঁচিয়া) আসনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এক জনের। তিনি হলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান তালুকদার। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আগামী শনিবার বগুড়া-৪, ৫, ৬, ৭ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে।
আমন্ত্রণ/এজি


































