গোপাল মোহন্ত, গেবিন্দগঞ্জ প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৬ টি ইউনিয়ন সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আশংকাজনক হারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। এতে নলকুপ ও চাপকল সহ বসতবাড়ীর পাম্পে পানি না ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। বর্তমানে পান যোগ্য পানির অভাবে নানামুখি সংকটে পরেছে সাধারণ মানুষ।
উপজেলার সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, রাজাহার, শাখাহার, কামদিয়া, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন সহ উপজেলার অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় প্রকট হয়েছে সুপেয় পানি সংকট। এমনকি অগভীর সেচ মেশিনে পানি ওঠছে না। সাপমারা ইউনিনের চক রহিমাপুর, রামপুরা,সাহেবগঞ্জ, মেরী, মাদারপুর, কাটাবাড়ী ইউনিয়নের পলুপাড়া, কলোনী, ভেলামারী, কৌচা,দক্ষিন আশকুরসহ আশপাশের বেশকিছু ইউনিয়নে প্রায় একই অবস্থা। পানযোগ্য পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী। বাধ্য হয়ে অনেকেই খাওয়ার পানির অভাব পুরণে মাটির আরো গভীরে পাইপ বসিয়ে সাব মারসিবাল পাম্পের সাহায্যে পানি উত্তোলন করছে। কিন্তু গরীব ও অভাবি মানুষ এই মেশিন বসাতে আর্থিক সংজ্ঞতি না থাকায় তারা প্রতিবেশীর বাড়িতে ধর্না দিয়ে পানি সংগ্রহ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর বিরক্ত এরাতে একেকদিন একেক বাড়ি থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য তাদের নানা ধরণের বিরম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
চকরহিমাপুর গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, এই এলাকার বেশির ভাগ বাসাবাড়ীর টিউবলে ও চাপকল গুলোতে পানি উঠছেনা। সুপেয় পানির অভাবে প্রতিদিনকার গৃহস্থালি কাজকর্মও ব্যহত হচ্ছে। বাসাবাড়ীর পাম্পে পানি না ওঠায় বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে পানির জন্য একাধিক বোডিং করে সাবমারসিবল স্থাপন করা হয়েছে । তারপরের বিভিন্ন কারণে পানির সংকটে চরম কষ্টে দিন কাটছে ভূমিহীন দরিদ্র ও সল্প আয়ের পরিবার গুলোর।
তবে পানির অভাব পুরণে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে ১৮ টি কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্প চালু করে। ইউনিয়ন ভিত্তিক একটি প্রকল্পে ১০টি করে পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাওয়ায় খুশি উপকার ভোগিরা। এমন প্রকল্প পানি সংকট পুরণে আশার আলো জাগালেও তার অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ সুপেয় পানি সংকট নিরসনে জনস্বার্থে ইউনিয়ন গুলিতে এধরণের প্রকল্প আরো গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।
পনির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মোঃ শাহাআলী, জানান আগে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ ফিট গভীরতায় বডিং করে পানি পাওয়া যেতো, এখন সেখানে পানি পেতে ৭০ থেকে ৮০ ফিট ভূগর্ভে যেতে হচ্ছে। সল্প আয়ের পরিবাদের সুপেয় পানি পেতে প্রকল্পের মাধ্যমে টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়াও উপজেলায় ১৮টি কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্পের আওতায় দশ পরিবারে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এধরনের প্রকল্পের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।
পানি সংকট আরো প্রকট হওয়ার আগেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে এবং জনস্বার্থে কমিউনিটি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্পটি পুনরায় চালু করবে এমনটি প্রত্যাশা এলাকাবাসী।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































