প্রদীপ মোহন্ত, দৈনিক আমন্ত্রণ, বগুড়া অফিস :
বগুড়ার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। সারা দেশের মতো এই জেলাতেও জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা। তীব্র তাপদাহ, যানজট, উচ্চ শব্দের হর্ন এসবের মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনে ও মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে তারা সড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। কাঠফাটা রোদেও তারা দায়িত্বে অবিচল। রোববার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।
ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলছেন, চলতি বছরের মতো তাপদাহ এর আগে কখনও দেখেননি তারা। এমনিতেই বগুড়া শহরে প্রচণ্ড গাড়ির চাপ সামলাতে তাদের নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে চলমান তাপদাহ তাদের কষ্টের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তারা শহরের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক সদস্যরা পানি শূন্যতা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছে। অনেক ট্রাফিক সদস্যরা ডিহাইড্রেশনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। যেসব ট্রাফিক সদস্যের হাই-প্রেসার আছে তাদের এই গরমে দায়িত্ব পালন করতে আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ইউনিফর্ম পরে এ গরমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। আবার শহরের সাতমাথা ছাড়া অন্য কোথাও পুলিশ বক্স না থাকায় আরও ভয়াবহ গরমের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমনকি তাদের বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ নেই।
সর্বশেষ গত ১৮ (এপ্রিল) বৃহস্পতিবার শহরের ঠনঠনিয়া বাসট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় ডিহাইড্রেশনে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মশিউর রহমান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন।
শহরের সাতমাথায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের কন্সটেবল ৫৫ বছর বয়সী মইন উদ্দীন। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, চাকরি জীবনে কখনও এত বেশি তাপদাহ দেখিনি। আমি পুলিশের চাকরি করি। কষ্ট হলেও মানুষের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করা আমার কাজ। বগুড়া এমনিতেই ব্যস্ততম শহর। এরমধ্যে আমরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সাধারণ মানুষদের ভোগান্তিতে পরতে হবে। এজন্য সবকিছু উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে।
শহরের ইয়াকুবিয়ার মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের কন্সটেবল ৫০ বছর বয়সী রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের জন্য সরকার থেকে আমাদের ছাতা দেওয়া আছে। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করি। কষ্টতো হয়। এরপরও শান্তির জায়গা হলো মানুষকে সেবা দিতে পারা।
বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ট্রাফিক বিভাগে ৫৬ জন কন্সটেবল ও ২০ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তারা প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ২ টা ও দুপুর ২টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দুই শিফটে আট ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে শহরের অন্তত ১৫ টি পয়েন্টে দিনের বেলাতে ২৮ জন কন্সটেবল ও ৯ জন কর্মকর্তা সড়কে যানযাট নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
জেলা পুলিশ সূত্র আরও জানায়, তীব্র তাপদাহের কারণে ইতিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ছাতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার সালাইন সরবারহ করা হবে।
বগুড়া আবহওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আজ রোববার বগুড়ায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রী রেকর্ড করা হয়েছে। বেলা ৩টার দিকে এই তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়।
বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসান) মাহবুবুল ইসলাম খান বলেন, তীব্র তাপদাহে ট্রাফিক সদস্যরা তাদের দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করছেন। তাদের বেশি বেশি পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একজন সার্জেন্ট দায়িত্বরত অবস্থায় অসুস্থ হয়েছিলেন। সবমিলিয়ে সদস্যদের স্বাস্থ্যর বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, দ্রুত দায়িত্বর ট্রাফিক সদস্যদের জন্য খাবার স্যালাইন সরবারহের ব্যবস্থা করা হবে। তীব্র তাপদাহের মধ্যেও আমরা দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বিশ্রামের জন্য পুলিশ বক্স বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা ছলছে।
কাঠফাটা রোদেও দায়িত্বে অবিচল তারা
এপ্রিল ২১, ২০২৪































