আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) :
একদিনও কলেজে উপস্থিত হোন নি, গঠন করেন নি সভার মাধ্যমে কোন কমিটিও। হয়নি নতুন কমিটির কোন রেজুলেশনও। সেই তিনিই এবার অজ্ঞাত স্থান থেকে কলেজের ই-মেইলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা, প্রভাষক আনোয়ার হোসেন ও সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক আলম চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক আইনজীবী মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত।
নিশাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থেকে মনোনীত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দাবী করেন। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরশহরের ফকিরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় বসবাস করেন।
কৃষকদলের ওই নেতার পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রতিবাদে আজ রোববার (১০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কমল, পৌর বিএনপির আহবায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশা,বিএনপি নেতা আমিনুর রশিদ ইকু,রফিকুল ইসলাম চপলসহ কলেজের শিক্ষকম-কর্মচারী।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা বলেন, পাঁচ আগষ্টের পরে সরকার কর্তৃক কলেজ পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে জানানো হয় নতুন কমিটি গঠন করতে।
সেই আলোকে আমি আক্কেলপুরের বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নাম প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সেটি আমাদের নিশ্চিতও করেছেন। ইতিমধ্য গত ৩ অক্টোবর কৃষক দলের নেতা নিশাত নামের একটি ছেলে যার বাড়ি ক্ষেতলাল উপজেলায়, তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থেকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করে নিয়ে একটি চিঠি আমাদের ই-মেলে পাঠিয়েছে। আমরা তার নাম প্রস্তাবে পাঠায়নি। তাকে কখনও দেখিনি চিনিও না, সে কখনও কলেজেও আসেনি।
তিনি আরো বলেন, কৃষক দলের নেতার ওই চিঠি পেয়ে আমরা হতবাক এটা কেন আসলো। প্রতিষ্ঠানের ভালোর জন্য আমরা যাদেরকে চেয়েছি তাদের কে কেন কমিটিতে দেওয়া হলো না। এরপর নিশাত আমাকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছে, যা আমি মুখে আনতে পারবো না। সে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে, বিভিন্নভাবে সে আমার জীবন বিষিয়ে তুলেছে, এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। সর্বশেষ সে গত বৃহস্পতিবার আমাকে শোকজের চিঠি পাঠিয়েছে। সে আইন ও নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নিজেকে সভাপতি দাবী করে আমিসহ আমার প্রতিষ্ঠানের আরো দু’জনকে শোকজের চিঠি পাঠিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন কৃষকদলের ওই নেতা নিশাত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কমল বলেন, কলেজের নীতিমালায় যা বলে সে অনুসারে একটি প্রতিষ্ঠান চলে। সেই নীতিমালায় সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী পদে যাঁদের নাম এই প্রতিষ্ঠান থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। সেগুলোকে তোয়াক্কা না করে আক্কেলপুরের কেউ নয়, এই মাটি মানুষের সাথে যার কোন সর্ম্পক নেই সে এখনকার প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে কলেজে ঢোকার চেষ্টা করছেন, আমরা তার প্রতিবাদ করেছি এবং অব্যাহত করতে থাকবো। তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতি দাবী করছেন। তিনি আজ অবধি কলেজে প্রবেশ করেননি, তার আগেই তিনি কেমন করে শোকজের চিঠি পাঠায়। তাই আমরা ভিসি মহদয়ের কাছে দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই আজকের দিনের কথা চিন্তা করে পূর্বের যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বিলুপ্ত করে নিয়ম অনুসারে যে কমিটি কলেজ থেকে পাঠানো হয়েছে তা বহাল রেখে কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখুন।
এবিষয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশা বলেন, মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই তিনি কলেজের সভাপতি হয়েছেন। কলেজের নামে প্যাড বানিয়ে ভুয়া স্মারকের মাধ্যমে কলেজের অধ্যক্ষসহ দুইজনকে তিনি কারণ দর্শানের নোটিশ দিয়েছেন যা আইন বহিৃভুত। কলেজের উন্নয়নের সার্থে কলেজ থেকে পাঠানো কমিটি বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করছি।
জানতে চাইলে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত বলেন, আমার চেম্বারে বসে একটি সভার মাধ্যমে কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্যকে নিয়ে রেজুলেশন করে অধ্যক্ষসহ দুইজন কে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমি যা করেছি বিধিমোতাবেক করেছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































