প্লাবন শুভ :
চার দিয়ে বিভাজ্য বছরগুলোকে অধিবর্ষ (লিপ ইয়ার বলা হয়। অধিবর্ষ এলেই মনে পড়ে যায় শৈশবে পড়া এক গল্পের কথা। গল্পে মূল কিশোরী চরিত্র বন্ধুর জন্মদিনে উপহার নিয়ে গিয়ে দেখে সবার হাতে চারটে করে উপহার। কিশোরী ধন্দে পড়ে যায়, ঘটনা কি? শেষে সে বুঝতে পারে বন্ধুর জন্মতারিখ ২৯ ফেব্রæয়ারি বা অধিবর্ষ।
এই অধিবর্ষ নিয়ে রঙ্গ-তামাশাও কম হয়না। যেমন বছরে একদিন বাড়া মানে বাড়তি খরচ তেমনি এই দিনে জন্ম নিলে, বিয়ে করলে চার বছর পরপর উদযাপন করতে হবে। ঠিক তেমনি ৭২ বছর বয়সে ১৮ তম জন্মদিন ব্যাপক আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালন করলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত চক্রবর্তী।
জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত চক্রবর্তী ১৯৫২ সালের ২৯ ফেব্রæয়ারি পৌরএলাকার পূর্ব কাটাবাড়ী গ্রামের স্বর্গীয় নলিনী কান্ত চক্রবর্তী ও স্বর্গীয়া কৃষ্ণকামিনী দেবী দম্পত্তির ঘরে জন্ম নেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত চক্রবর্তী ১৯৭১ সালে ০৭ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তারপর বদলীয় হয়ে দীর্ঘদিন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে চাকরিজীবন শেষ করে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি অবসরে যান। বর্তমানে তিনি নিজস্ব জমি ও বাগান দেখভাল করছেন।

তিনি দুই ছেলের জনক। তার বড় ছেলে দেবাশিষ চক্রবর্তী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ফিল্ড কর্মকর্তা ও ছোট ছেলে অর্ণব চক্রবর্তী অধ্যায়ণরত। তার সহধর্মিণী সবিতা ব্যানার্জি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শিকা।
দেখা যায়, তার ১৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি আমন্ত্রণপত্র দ্বারা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে পূর্জা, প্রার্থনাসহ কেক কেটে দিবসটি পালন ও নৈশ্য ভোজনের আয়োজন করা হয়।
রঞ্জিত চক্রবর্তীর বড় ছেলে দেবাশিষ চক্রবর্তী বলেন, আমার বাবার ১৮ তম জন্মদিন পালন করা হলো। বিষয়টি অবাক করার হলেও বাস্তব। আমার বাবা অধিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যার ফলস্বরূপ চার বছর পরপর তার জন্মদিনটি ফিরে আসে। খুবই জাঁকজমকভাবে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে দিনটি পালন করা হলো।
দিবসটিতে অংশ নেয়া শিক্ষক দম্পতি সঞ্জীব চক্রবর্তী ও পাপিয়া চক্রবর্তী বলেন, রঞ্জিত চক্রবর্তী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একইসাথে তিনি একটি ব্যতিক্রম মানুষ, যে কি-না ৭২ বছর বয়সে এসে ১৮ তম জন্মদিন পালন করছেন। এটি বিরল ঘটনা। খুব কমই দেখা যায় এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমন একটি দিনের স্বাক্ষী হতে পেরে খুবই আনন্দিত লাগছে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, ১৯৫২ সালের ২৯ ফেব্রæয়ারি আমার জন্ম। অধিবর্ষের কারণে প্রতিবছর আসে না আমার জন্মদিন। চার বছর পরপর আসে। তাই আমার ১৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে আমন্ত্রণপত্র দ্বারা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে পরিবার-পরিজনসহ কেক কেটেছি। পরে সকলে একসাথে নৈশ্যভোজ করেছি। আমার জীবনের অন্যতম সেরাদিন ছিল এটি। আমি খুবই আনন্দিত।































