প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ :
শরতের আগমনের বার্তা নিয়ে সাদা কাশফুলে প্রকৃতি সেজেছে তার আপন রূপে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে সৌন্দর্য ও প্রশান্তির প্রতীক কাশফুল। ছয় ঋতুর এই দেশে প্রত্যেক ঋতুর রয়েছে আলাদা রূপ ও বৈচিত্র্য। সেটি বহন করে এবারও শরৎ এসেছে। তীব্র গরম আর কাঠফাটা রোদে ময়ূরের মতো কাশফুলের পালকের অপরূপ সৌন্দর্য মন জুড়ায় সব বয়সী মানুষের।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পথের ধারে, গ্রাম-গঞ্জের জমির পাশে, পুকুরপারে, নদীর ধারে, মাঠে-ঘাটে শোভা পাচ্ছে কাশফুল। মূলত ছন গোত্রীয় এই ঘাস কমবেশি দেশের সব অঞ্চলেই দেখা যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং রং ধবধবে সাদা। গাছটির চিরল পাতা খুব ধারালো, খসখসে। গ্রাম্য এলাকায় জ্বালানি, ঝাড়– এবং ঘর ও পানের বরজের ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের মতে, কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। যেমন- পিত্তথলির পাথর নির্মূলে এবং ব্যথানাশক ফোড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
একসময় বীরগঞ্জ উপজেলার নদীর ধারে, গ্রামগঞ্জে কাশফুল দেখা যেত। কালের বিবর্তনে এর পরিমাণ অনেক কমে গেছে। উপজেলার সুজালপুর, মোহনপুর, মরিচাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এখনো দেখা মেলে নান্দনিক সৌন্দর্যের কাশফুল। কাশফুলের গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম হয়। বেড়ে ওঠার সময় চোখে না পড়লেও ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।
উপজেলার ঢেপা নদীর তীরে কাশবাগানে ঘুরতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘কাশফুল আমার খুব ভালো লাগে। তাই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। কিছু কাশফুল তুলে মায়ের জন্য নিয়ে যাব। মা দেখলে খুব খুশি হবেন।’
বীরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তার হোসেন বলেন, ‘কাশফুলের সৌন্দর্যে মানুষের মনে প্রশান্তি আসে। আগে অনেক দেখা যেত। বর্তমানে বিলুপ্তির পথে এই গাছ। এর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’
আমন্ত্রণ/এসিজি


































