বগুড়া অফিস :
বগুড়ার দেড় বছর অতিবাহিত হলেও শহরের করতোয়া নদীর ওপর ফতেহ আলী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। শুধু তাই নয় গত ৩০ জুন এই প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়েছে। কবে নাগাদ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে তাও পরিষ্কার করে বুঝা যাচ্ছে না। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন পুর্ব বগুড়ার তিন উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ। কারণ তাদের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হলো করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণ শেষ হবে এবং যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বগুড়া শহরের পূর্বপ্রান্ত ও পূর্ব বগুড়ার তিন উপজেলার বাসিন্দাদের চলাচল সুগম করতে সরকার করতোয়া নদীর ওপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফতেহ আলী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে কাজ হয়েছে অর্ধেকেরও কম। ফলে সেতুর নির্মাণ কাজ বর্ধিত সময়েও শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
১৯৬২ সালে নির্মিত ফতেহ আলী সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটি ২০১৮ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তারপরেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়েই যানবাহন চলাচল করে আসছিল। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এজন্য ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ মেলে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ করে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। সে সময় বিকল্প হিসেবে মানুষের চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেতু পুনর্নিমাণ শুরু হওয়ার পর আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দারা। কিন্তু এলাকার বাসিন্দাদের আনন্দ নিরানন্দে পরিণত করেছে সেতু নির্মাণে বিলম্ব। ফলে পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা একমাত্র বিকল্প ভরসা বাঁশের সাঁকো তারও নড়বড়ে অবস্থা।
সড়ক ও সেতু বিভাগ জানায়, ফতেহ আলী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা গত ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। কিন্তু রাস্তার জন্য অর্থ বরাদ্দ মিললেও সেতুর জন্য বরাদ্দ আটকে যাওয়ায় দুটি কাজ একসঙ্গে শুরু করা যায়নি। এ কারণে সেতুর কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন সেতুটি হবে ৪০ ফুট প্রশস্ত। এটি পূর্ব বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা এই তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের সেতু।
সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার জামির ইকবাল বলেন, সেতুর যে কাজ বাকি আছে তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
বগুড়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সেতুর নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য ঠিকাদারকে দ্রæত কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































