চন্দ্রনাথ গুপ্ত, আমন্ত্রণ :
সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে জমজমাট কেনাকাটা। পূজার ভোগ-প্রসাদ তৈরি, ঐতিহ্যবাহী নারিকেলের নাড়ু বানানো ও অতিথি আপ্যায়নের নানা প্রস্তুতিতে চলছে প্রত্যেকটি সনাতনী পরিবারের মাঝে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় পৌরবাজারসহ বিভিন্ন হাটে উপচে পড়া ভিড় থাকছে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। পূজায় নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম কম থাকায় ক্রেতাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় নারিকেল ব্যবসায়ীরা।
আজ শুক্রবার (১৬অক্টোবর) সকালে ফুলবাড়ী পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে দেশি ও ভারতীয় নারিকেলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে আকার ও প্রকার ভেদে এক জোড়া (দুইটা) নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৪০ টাকায়। ভারতীয় নারিকেলের দাম প্রতি জোড়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। সেই হিসাবে এক-একটি নারিকেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ গত বছর পূজার সময় প্রতি জোড়া নারিকেল ২৫০ থেকে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি আখে গুড় বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আলাদিপুর গ্রামের তারাপদ রায় জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম অনেকটাই সহনীয়। দাম কম পাওয়ায় পূজার নাড়ু বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় নারিকেল ও গুড় কিনেছেন তিনি। এদিকে নারিকেলের হঠাৎ দরপতনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
পৌরবাজারের নারিকেল বিক্রেতা রাশেদ মিয়া ও তৈয়ব আলী জানান, পূজা উপলক্ষে চাহিদা বেশি থাকবে ভেবে আগেভাগেই বেশি দামে দেশি নারিকেল কিনে তারা মজুত করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বাজারে ভারতীয় নারিকেলের প্রচুর সরবরাহ শুরু হওয়ায় দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কেনা নারিকেল এখন কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের সভাপতি শ্রী জয়প্রকাশ গুপ্ত বলেন, চলতি বছর উপজেলার মোট ৬১টি মÐপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্য বছরগুলোর মতোই এবারও উপজেলা জুড়ে অত্যন্ত আনন্দ উৎসবের মধ্যেই শরদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্দিরের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজা উপলক্ষে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট বা সরবাহ কম হওয়ার অজুহাতে কেউ যেন কোনো প্রকার পণ্যের দাম অযাচিতভাবে বাড়াতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
আমন্ত্রণ/এজি
ফুলবাড়ীতে দুর্গাপূজার বাজারে নারিকেলের দামে ক্রেতাদের স্বস্তি
অক্টোবর ১৬, ২০২৬
































