আমিনুল ইসলাম, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
কন্যাসন্তান ঘরে আসায় আনন্দে ভরে উঠেছিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দাউদপুর মালিপাড়ার একটি পরিবার। তবে সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুশ্চিন্তাও। জন্মের পর নবজাতকটির শারীরিক গঠনে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য। দুই হাতে সাতটি করে এবং দুই পায়ে সাতটি করে মোট ২৮টি নখ রয়েছে শিশুটির। পাশাপাশি মুখের ওপরের তালুর অংশে জন্মগত ত্রুটি থাকায় স্বাভাবিকভাবে মায়ের বুকের দুধ পান করতে পারছে না সে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে ফুলবাড়ীর ওয়ান জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। অস্ত্রোপচার করেন ডা. মো. এ এন নুরুল ইসলাম চৌধুরী (আরিফ)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের কোলে শুয়ে আছে নবজাতকটি। শিশুটির হাত-পায়ের আঙুলে রয়েছে অতিরিক্ত নখ। মুখের গঠনের সমস্যার কারণে তাকে মায়ের বুকের দুধ সরাসরি পান করানো যাচ্ছে না। বর্তমানে ড্রপারের মাধ্যমে শিশুটিকে দুধ পান করানো হচ্ছে।
শিশুটির বাবা মো. আশাদুল ইসলাম আরিফ পেশায় ভ্যানচালক। পাশাপাশি কুলি শ্রমিকের কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান তিনি। মা মোছা. লিজা মনি। বিয়ের পর এ দম্পতির ঘরে এটিই প্রথম সন্তান।
শিশুটির জন্মের পর পরিবারের একদিকে যেমন কন্যাসন্তান পাওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে তার চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। কারণ, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যয় কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত বাবা-মা।
চিকিৎসক মো. এ এন নুরুল ইসলাম চৌধুরী (আরিফ) জানান, শিশুটির হাত ও পায়ের অতিরিক্ত নখে আপাতত তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে মুখের ওপরের তালুর যে অংশে ত্রুটি রয়েছে, সেটি চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে এবং এর জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
শিশুটির বাবা মো. আশাদুল ইসলাম আরিফ বলেন, “মেয়ে হয়েছে—এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। কিন্তু জন্মের পর মেয়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আমি ভ্যান চালাই, পাশাপাশি কুলি শ্রমিকের কাজ করি। আমার সামর্থ্য খুবই সীমিত। মেয়েকে সুস্থ করতে চিকিৎসা করাতে চাই, কিন্তু খরচের কথা চিন্তা করলে ভয় হয়।”
এলাকাবাসী জানান, তাঁদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। শিশুটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কৌতূহলী মানুষজন বাড়িতে এসে শিশুটিকে দেখতে ভিড় করছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা চান, কৌতূহলের পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টিও যেন মানুষের নজরে আসে।
শিশুটির দাদা মো. আমজাদ হোসেন ও দাদি মোছা. আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকটের কারণে যেন শিশুটির চিকিৎসা থেমে না যায়।
শিশুটির পরিবার সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে।
সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা শিশুটির বাবা মো. আশাদুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগ: ০১৭০৭-৪০৯৫৮৩
আমন্ত্রণ/এজি
ফুলবাড়ীতে ২৮টি নখ নিয়ে জন্ম নবজাতকের : কন্যাসন্তান পেয়ে আনন্দ, তালুর জটিলতায় দুশ্চিন্তায় পরিবার
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
































