রীতা রানী কানু :
সারা দেশে চলছে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ। অন্যবারের মতো এবারও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এরাকায় বোরো, ভুট্টা, বেগুন ও মরিচ আবাদ করা হয়েছে। প্রায় এক পক্ষকাল ধরে টানা তাপপ্রবাহে পুড়ে যাচ্ছে এসব খেতের ফসল। বাড়তি সেচে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাজ হচ্ছে না। এই অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, মাত্র ১০-১৫ দিন গেলে তারা ভুট্টা ঘরে তুলতে পারতেন। কিন্তু প্রচন্ড তাপপ্রবাহের কারণে এসব ভুট্টা পরিপক্ব না হতেই গাছ মরে চুপসে যাচ্ছে। প্রতিদিন সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। খেতের মাটি পুড়ে হলদে রঙের হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর উপজেলায় বোরো ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর, ভুট্টা ৪ হাজার ১০ হেক্টর, আম ৪৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এসবের মধ্যে বাদাম ৭৫ হেক্টর, ভুট্টা ১ হাজার ৩৭০ হেক্টরসহ বিভিন্ন শাকসবজি ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলায় ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে শুক্রবার পর্যন্ত ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যেই তাপমাত্রা ওঠানামা করেছে; যা সব ধরনের ফসলের জন্যই ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড তাপপ্রবাহে বোরো, ভুট্টা, মরিচ ও বেগুন ক্ষেতের গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেতে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, বর্গা নিয়ে দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন। প্রতিদিন ভুট্টা ক্ষেতে বাড়তি সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। আর এক সপ্তাহ গেলেই ভুট্টাগুলোর দানা ভালোভাবে পুরোট হয়ে যাবে। তখন তুললে ভুট্টার ওজনও বাড়বে আর বাড়তি কিছু আয়ও হবে। চলমান খরার জন্য ভুট্টাগুলো এবার হয়েও হলো না।
একই ইউনিয়নের পাঠকপাড়া গ্রামের সবজি চাষি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, নিজের এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি চাষ করেছেন। কিন্তু চলমান তাপপ্রবাহের কারণে সবজি ক্ষেতের গাছ শুকে যাচ্ছে, আর ফল ঝরে পড়ছে। এতে কোনো লাভ হবে না।
একই ইউনিয়নের আমডুঙি গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মরিচ চাষি নির্মাল মার্ডী বলেন, এ বছর ২৭ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। কিন্তু চলমান তাপপ্রবাহের জন্য গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ফুল থেকে বের হওয়া মরিচ রোদের তাপে ঝরে পড়ছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচ উঠবে কী না এনিয়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, শীতকালীন ভুট্টা এখন তোলার সময়। এমন ক্ষতি হওয়ার কথা না। তবে তাপের কারণে হতেও পারে। এছাড়াও তাপের কারণে অন্যান্য ফসলও কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে কৃষকদেরকে ক্ষেতে সেচের মাধ্যমে পানি ধরে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রচন্ড তাপপ্রবাহে ফুলবাড়ীতে পুড়ছে ক্ষেতের ফসল, দুশ্চিন্তায় কৃষক
মে ৪, ২০২৪


































