রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন যানবাহনে এলইডি লাইটের ব্যবহার বেড়েছে। এতে রাতে লাইটের তীব্র রশ্মির কারণে সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারীদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। চোখে সরাসরি আলোকরশ্মি পড়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এলইডি লাইটের ব্যবহার বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অটোরিকশা ভ্যান স্ট্যান্ড সাধারণ সম্পাদক শাহেনশাহ আলম মিঠু বলেন, উপজেলায় তিন হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান রয়েছে। সেই সঙ্গে আরও শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব গাড়িতে রাতে চলাচলের জন্য সংযোজন করা হয়েছে এলইডি লাইট। সাধারণ লাইটে আলো কম হয়, এলইডি লাইটে আলো অনেক বেশি। তাই চালকেরা এলইডি লাইট ব্যবহারে বেশি আগ্রহী।
শিক্ষক ধীমান চন্দ্র সাহা নামের একজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, বর্তমানে চার্জার ভ্যান ও অটোরিকশার চালকেরা এলইডি লাইট বেশি ব্যবহার করছেন। এসব লাইট মোটরসাইকেলসহ কিছুসংখ্যক বাস ও ট্রাকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এই লাইট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সামনে থাকা যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এতে যানমালের ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, দিনের চেয়ে রাতে দুর্ঘটনাকবলিত রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে দুর্ঘটনার শিকার বেশির ভাগ রোগী ছোট গাড়ির চালক ও যাত্রী।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, পাগলু, নসিমন, করিমন, রিকশাভ্যানসহ যা আছে এগুলোর মহাসড়কে চলাচলের কোনো আইন নেই। এসব যানবাহন তো অবৈধ। এসব যানবাহনসহ অন্য যেগুলোতে এলইডি লাইট লাগানো আছে, সেগুলো বন্ধ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ নছিমন, করিমন, পাগলুগুলোতে যে এলইডি সাদা লাইট লাগানো হচ্ছে, তা মানুষের চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই লাইটের প্রভাবে সরাসরি চোখের রেটিনার কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে শুরম্ন করে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ্ তমাল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে এলইডি লাইট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য বিধিমোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুলবাড়ীতে যানবাহনে এলইডি লাইটে বাড়ছে দুর্ঘটনা
মে ৩, ২০২৪


































