বগুড়া ব্যুরো:
আইন, বিচার, ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ভূমিকার কারণে আমরা একটি নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি। যেখানে আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনভাবেই হারানো চলবে না। ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে আপনার সরকার আপনিই নির্ধারণ করবেন। আপনার জনপ্রতিনিধি কে হবেন। কে সংসদে গিয়ে আপনার কথা বলবেন। সেটি আপনিই ঠিক করবেন। আগে ঠিক করতো শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন এটি ঠিক করবেন। আমরা অসাধারণ একটি নির্বাচন করতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যেই প্রার্থীকে যাকে ইচ্ছা ভোট দিব। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় আমরা অন্যকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কোন সমস্যা করবো না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে গেলেন। কাজেই আমরা সবার ভোটাধিকার উন্মুক্ত রাখবো।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করা, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চত ও গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলের স্বার্থে নয় দেশের স্বার্থে এই গণভোট মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনারা যদি চান এই দেশে থেকে বৈষম্য দূর হোক। নিপীড়ন দূর হোক। অবিচার দূর হোক, দুর্নীতি দূর হোক। তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দিবেন। আর যদি আপনারা অন্যায় অবিচারের পক্ষে থাকেন। তাহলে আপনি না ভোট দিবেন। আমরা এ দেশ থেকে দুর্নীতি, অবিচার, অনিয়ম, শোষন দূর করার জন্য হ্যাঁ ভোট দিব। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।
গণভোটের বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমবারের মতো এবার প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিতে পারছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম তখন বলেছিলাম আমাদের তিনটা প্রধান কাজ। একটা হচ্ছে সংস্কার। আরেকটি হচ্ছে গণহত্যাকারিদের বিচার। অন্যটি হচ্ছে নির্বাচন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, গত তিনটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি। একবার করেছে রাতের ভোট, আরেকবার করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া একক ভোট, অন্যবার করেছে আমি-ডামি ভুয়া ভোট। ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশের মানুষকে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছিলো। তারা নিজেরা নিজেদেরকে ইলেকট্রেট ঘোষণা করে বাংলাদেশের মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলো। নিজের দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিলো। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এস.এম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা।
আমন্ত্রণ/এজি
আমরা অসাধারণ একটি নির্বাচন করতে চাই -বগুড়ায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল
জানুয়ারি ২১, ২০২৬
































