রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গরমের অসহনীয় তীব্রতা। এতে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপদাহের কারণে বাড়ছে রোগবালাই, হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে রোগীর বাড়তি চাপ।
গরমের তীব্রতার সঙ্গে পালস্না দিয়ে বাড়ছে রোগবালাই। প্রচন্ড গরমে যেসব অসুস্থতা দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, ঠান্ডা, জ্বর-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক। তীব্র গরমের কারণে সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন অসুস্থ, বয়স্ক ও শিশুরা। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি ও তরল কাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলায় মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। এই তাপমাত্রাকে ‘মাঝারি তাপপ্রবাহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গরমের তীব্রতা আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) থেকে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত আট দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃর্বিভাগে ৩ হাজার ৫৭৫ জন এবং অন্তঃবিভাগে ৬৭৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১০১ জন ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পাতলা পায়খানা, বমি, পেট ব্যাথাসহ গরম জনিত রোগে আক্রান্তরাও রয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ও মেঝে রোগীতে ঠাসা। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক দিনে রোগী ডায়রিয়া ও তাপপ্রবাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীকে ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে শয্যা না পেয়ে অন্তঃবিভাগের মেঝেতে বিছানা পেতে বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সরোয়ার হোসেন বলেন, একদিনে ১০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ১৩ জন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়াও বুক ধড়পড়, জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ তাপপ্রবাহের কারণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ সময বেশি বেশি ঠান্ড পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করা, রোদে ভারী কাজ না করা ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রচন্ড গরমে শিশুদের ডায়রিয়া ও সর্দি-জ্বর বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া সকাল ৯টার পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একদম রোদে যাওয়া যাবে না। শীতল জায়গায় তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বেশি বেশি পানি ও বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। গোসল করাতে হবে। সুতির হালকা জামা-কাপড় পরাতে হবে। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি বা খাবার শিশুকে দেওয়া যাবে না। গরমে হঠাৎ ঠান্ডা পানি বা খাবার খেয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যাবে না।
‘ফুলবাড়ীতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ রোগ-বালাই, হাসপাতালে বাড়তি চাপ’ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী অন্তঃবিভাগে ভর্তি, শয্যার অভাবে মেঝেতে ঠাঁই
এপ্রিল ২৩, ২০২৪


































