প্রদীপ মোহন্ত, দৈনিক আমন্ত্রণ, বগুড়া অফিস :
বগুড়ায় মায়ের সঙ্গে হরিবাসর অনুষ্ঠানে আসা ৫ বছরের শিশু বন্ধন কুমার দাসকে (৫) গলা কেটে হত্যা করেছে তার দাদু (নানা) সুকুমার দাস (২৫)। নিহত বন্ধন কুমার দাস গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খানসামা গ্রামের রবি কুমার দাসের ছেলে। রবি কুমার তার শ্বশুরবাড়ী বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের পীরগাছা গ্রামে থাকেন। বন্ধনকে হত্যার পর তার নানা (মা কাকলী রানী দাসের মামা) নিজ ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বসে ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। আটক সুকুমার দাস (২৫) সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের শশীবদনী গ্রামের ঝুমুর দাসের ছেলে। স¤প্রতি স্নাতক পাশ করে বগুড়া আইন কলেজে ভর্তি হন সুকুমার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, কাকলী রানী গত মঙ্গলবার তার দিদার (নানী) বাড়ী শশীবদনী গ্রামে ছেলে বন্ধনকে সঙ্গে নিয়ে হরিবাসর অনুষ্ঠানে যান। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাকলীর মামা সুকুমার বন্ধনসহ দুইশিশুকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এসময় সে ধান কাটার কাঁচি দিয়ে শিশু বন্ধনের গলায় আঘাত করলে অন্য শিশুটি ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামের লোকজন ওই শিশুর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠায় সুকুমার তার বাড়ীর একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
সুকুমারের প্রতিবেশী পরিমল চন্দ্র পালিত জানান, কেউ বলছে সুকুমারের মোবাইল নেওয়ার কারণে আবার কেউ বলছে অন্য কোনো দ্ব›েদ্বর কারণে ওই ছেলেকে হত্যা করেছে। তবে অনেকেই তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বানাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু সুকুমার কালকেও হরিবাসরে সারাদিন প্রসাদ বিতরণ করেছে। আবার সে এলএলবি পড়াশোনাও করছে।
নিহত বন্ধনের বন্ধুর মা কান্নারত অবস্থায় বলেন, এক সাথেই আমরা হরিবাসরে আসছিলাম। আজ হরিবাসর শেষ করে বাড়ীতে যেতে চাচ্ছিলাম। হরিবাসরে বসে থাকা অবস্থায় শুনি বন্ধনকে তার দাদু সুকুমার গলাকেটে হত্যা করেছে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুজ্জামান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক সুকুমার হত্যার কারণ সম্পর্কে কোন কিছু জানায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত শিশুর লাশ শজিমেক হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আমরা তদন্ত করে শীঘ্রই এ ব্যাপারে জানাবো।


































