বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপন কে হাতির পিঠে চড়ে রাজকীয় বিদায় জানালেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।বুধবার (২৪ সেপ্টম্বর) বিকেলে তাকে সারিয়াকান্দি ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজে হাতির পিঠে চড়িয়ে এ বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়।
রাজকীয় এ বিদায় দেখতে আশপাশ এলাকা থেকে হাজারো মানুষ কলেজ চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন।আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট নূর -এ- আজম বাবু।বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজ সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মিল্লাত হোসেন মিঠু।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে নূর-এ- আজম বাবু বলেন, ১৯৯৫ সালের ১ জুন আওরঙ্গজেব স্বপন এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন। এই কলেজকে একটি ছোট্ট টিনের ঘর থেকে শুরু করে তিলেতিলে পরিশ্রম করে যারা এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন এবং পায়ে হেঁটে সাইকেলের চড়ে বিনা বেতনে, খেয়ে না খেয়ে দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে আজকে যারা কলেজকে দাঁড় করিয়েছেন তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপন একজন।
তার প্রাপ্য সম্মানটুকু আমরা দিতে পারিনি। তাই আজ তাকে সম্মান জানাতে হাতির পিঠে চড়ে বিদায় জানালাম। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারলে আরো বেশি খুশি হতাম।
ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি প্রতিষ্ঠাতা মিল্লাত হোসেন মিঠু বলেন, আওরঙ্গজেব স্বপন শুধু একজন অধ্যক্ষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন এলাকার আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শ শ ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, তৈরি করেছেন সুদক্ষ নাগরিক।
বিদায়ী অধ্যক্ষ আওরঙ্গজেব স্বপন জানান, কর্মজীবনে ভাবিনি এত সম্মান পাবো। এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আজকের এ আয়োজন আমাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অনুপ্রাণিত করবে।
অধ্যক্ষ স্বপনের সহধর্মিণী মনিজা বেগম ও ছেলে আদনান সৌরভও বক্তব্য রাখেন। তাদের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার আবেগ।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকন্দ ও মিজানুর রহমান।
পুরো অনুষ্ঠান আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করলেও শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আনন্দ-গর্বের ছাপ। একজন শিক্ষককে ভালোবেসে, সম্মান জানিয়ে মানুষ কিভাবে বিদায় জানাতে পারে—ছাইহাটা ডিগ্রি কলেজ সেই অনন্য নজির স্থাপন করলো।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































