গোপাল মোহন্ত, গাইবান্ধা প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে বোরো ধান চাষ-আবাদ। এ জন্য ব্যস্ত সময় পাড় করছে চাষীরা। সার, সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষের ব্যয়ও বেড়েছে। সকল সঙ্কট কাটিয়ে অনুকল আবহওয়ায় বোরোর ধানের ভালো ফলনের আশা কৃষকদের। বোরা চাষ নির্বিঘœ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
মধ্য জানুয়ারি থেকে এ উপজেলায় বোরো ধান চাষ শুরু হয়ে থাকলেও শীতের প্রকোপ কমে আসায় অনুকুল আবহাওয়ায় এখন পুরোদমে বোরো রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। মাঠে মাঠে চলছে কৃষকের জমিতে হাল দেওয়া, জমি কাদা করা, বীজ তলা থেকে চারা উঠানো এবং বোরো চারা রোপনের কাজ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। এরমধ্যে ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, আর উচ্চ ফলনশীল বা উফশী জাত ৮৪ হাজার ৫০০ এবং ৪১০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ধান চাষ করা হবে ধারনা করছেন। এ জন্য ৭ হাজার ৪ ৩১ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্দ্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৮ হেক্টর। সার তেলসহ কৃষি উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষের ব্যয়ও বেড়েছে।
কৃষকরা বলছেন শীত ও ঘন কুয়াশা কমে আসায় সময় মত বোরা চাষ শুরু করতে পেরেছেন তারা। সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধিতে বোরো আবাদের ব্যয় বাড়লেও অনুকুল আবহাওয়ায় এ বোরো ধান আবাদে ভালো ফলন আশা করছেন চাষীরা। শালমারা ইউনিয়নের জীবনপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, প্রথম প্রথম ডিলাররা সারের দাম বেশী নিলেও কৃষি বিভাগের তপরতায় তা সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। সার সেচ সহ সব অনুকুলে থাকায় নিবিঘেœ চাষাবাদ করা হচ্ছে। একই এলাকার সোবাহান আলী বলেন বন্যা প্রবণঞ্চলেও কৃষকরা জমির অন্যান্য ফসল তুলে আগাম ধান চাষে নেমে পড়েছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো. মেহেদী হাসান জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন বোরো আবাদ নির্বিঘœ করতে আদর্শ বীজতলা তৌরি,কুয়াশার ক্ষতির হাত থেকে বোরো বীজতলা রক্ষাসহ বোরো রোপনে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে বোরো বীজতলা গুলো রক্ষা পাবে। সেই সাথে বোরো চাষ নির্বিঘœ করতে সব ধরনের সহায়তা করার কথায় জানান এ কৃষি কর্মকর্তা। বোরো আবাদ নির্বিঘœ করতে জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সব সময় কৃষকের পাশে থেকে প্রযুক্তিগত পরামর্শ সহযোগিতা প্রদান অব্যহত রাখবে এমনটি প্রত্যাশা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































