মো. জোবায়ের আলী জুয়েল :
জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবজ্জোল বিদ্যাপীঠ হিসেবে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল (বাংলা স্কুল) কালের স্বাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে রয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে শনিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে স্কুলটির ১৬০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব ও মিলন মেলা হয়েছে। বাংলা স্কুলের কথা বলতে গেলে দিনাজপুরের অতীত ইতিহাসের দিকে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে।
তৎকালীন বৃহত্তর দিনাজপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সারা ভারতবর্ষে প্রত্যেক জেলা শহরে একটি করে সরকারী স্কুল প্রতিষ্ঠার আওতায় বর্তমান দিনাজপুর জেলা স্কুল কে সে বৎসরই সরকারী জেলা স্কুল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তৎকালীন দিনাজপুরের সুযোগ্য জেলা কালেক্টর মিষ্টার উইলিয়াম ব্রোক (১৮৫৩-১৮৫৫ খ্রি.) এ ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে পরবর্তীতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে এই স্কুলটির প্রতি সার্বিক সহযোগীতার হাত প্রসারিত করেন। সেই সময় দিনাজপুর সার্কেলের স্কুল ইন্সপেক্টর ছিলেন মিষ্টার রবিণ সন। বাংলার বড়লাট ছিলেন লর্ড ডালহৌসী।
এখানে আরেকটি কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এর আগে শহরের প্রান্ত সীমানায় বিদেশী খ্রিষ্টান মিশনারী দ্বারা পরিচালিত ব্যাপিষ্ট মিশন প্রাইমারী স্কুলটি (১৮০৪ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত) বড় মাঠের মিশন রোডে অবস্থিত উইলিয়াম কেরীর (১৭৬১-১৮৩৪ খ্রি.) শিষ্য শ্বেতাঙ্গ বণিক মিষ্টার ফার্ণান্ডেজ দ্বারা স্থাপিত ছাড়া আর কোনো স্কুল সে সময় দিনাজপুর শহরে বিদ্যমান ছিলনা।
এরপর শহরের পরবর্তী স্কুলটির নাম দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল (বাংলা স্কুল)। এটি ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর গণেশতলায় গার্লস স্কুল (প্রাইমারী)। ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজবাড়ী সংলগ্ন ডায়মন্ড জুবিলী স্কুল। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বালুবাড়ীতে মহারাজা গিরিজানাথ হাইস্কুল (মহারাজা গিরিজানাথের নামানুসারে)। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে কালিতলা মহল্লায় সারেদ্বশরী গার্লস স্কুল। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কংগ্রেস মাঠে মুন্সিপাড়ায় দিনাজপুর একাডেমী ও ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে জেলখানা মসজিদ সংলগ্ন দি টাউন হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে যে রাজবাড়ী এলাকায় ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর মহারাজার অর্থ সাহায্যে ডায়মন্ড জুবিলী স্কুল স্থাপিত হয়। প্রথমে মাইনর ইংলিশ স্কুল রূপে স্কুলটির উদ্ভব হয়। মহারানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকালে ডায়মন্ড জুবিলী উৎসব উপলক্ষে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্পর্ক বিজড়ীত। দিনাজপুর শহরে প্রাথমিক যুগের শিক্ষা বিস্তারে এ স্কুলটির অবদান উল্লেখযোগ্য। এটি ইদানিং হাইস্কুলে রূপান্তরিত হয়েছে। দিনাজপুর জেলা একটি ঐতিহাসিক জনপদ হিসেবে সর্বত্র সুপরিচিত।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলটি (বাংলা স্কুল) স্থাপিত হয় ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
আমি শৈশবে দিনাজপুর বাংলা স্কুলের ছাত্র ছিলাম। এই স্কুলে ক্লাশ ওও তে ভর্তি হয়েছিলাম। অল্পদিন এই দিনাজপুর বাংলা স্কুলে লেখাপড়া করেছি। সে সময় স্কুলের কিছু স্মৃতি আজও আমার কাছে অবস্থান । স্কুলের সামনে একটি বৃহৎ আমগাছ ছিল। আমরা স্কুলের ক্লাসের সব ছাত্র মিলে সেই আমগাছের নীচে বসে জোরে জোরে চিৎকার করে নামতা ও স্কুলের পড়া মুখস্ত করতাম। আমাদের সম্মানিত স্যার বেত নিয়ে চেয়ারে বসে থাকতেন। নামতা বা স্কুলের পড়া ভূল পড়লে পিঠে বেত্রাঘাত করতেন। সেই স্মৃতি এখনো আমার হৃদয়ে অবস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে আমি জেলা স্কুলে ভর্তি হই। তবু আজও আমার শৈশবের বাংলা স্কুলের কথা ভূলতে পারি না। যখনই আমি স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই তখনই আমার এ স্কুলের শৈশবের মধূর স্মৃতি মনের মধ্যে উদয় হয়।
আমার জেলা স্কুলে পড়ার সময় যে ছবি গভীরভাবে উৎকীর্ণ তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক স্বর্গীয় গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য। আমাদের সৌভাগ্য তিনি চিরকাল দিনাজপুরেই রয়ে গেলেন। বেশ কিছুদিন হলো তিনি দিনাজপুরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। তাঁর ছেলে হিমাংশু ভট্টাচার্য (বর্তমানে প্রয়াত) ও আমার জেলা স্কুলের অন্তরঙ্গ সহপাঠী বন্ধু ছিল। আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং শ্রদ্ধার শিক্ষক ছিলেন পন্ডিত স্যার (গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য)। তিনি ছিলেন আমার জেলা স্কুলের আদর্শ শিক্ষক। আমরা সবাই ক্লাসে তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতাম। কারণ ক্লাসের অর্ধেক সময় তিনি পড়াতেন আর অর্ধেক সময় তিনি ক্লাসে নানান মজার গল্প শোনাতেন। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প, শরৎচন্দ্রের পন্ডিত মশাই, বিন্দুর ছেলে, রামের সূমতি, শ্রীকান্ত থেকে ইন্দ্রনাথের কথা পড়িয়ে শোনাতেন। তিনি অপূর্ব ভঙ্গিতে সব গল্প বলতেন- রাজার গল্প, ডাকাতের গল্প, রাণীর গল্প, ভূতের গল্প। তাঁর বলার ভঙ্গি ছিল অপূর্ব। আমরা ক্লাসে হাঁ করে মন্ত্রমুগ্ধের মতো অবাক বিস্ময়ে সবাই তাঁর গল্প বলা শুনতাম। পরে আমরা জানতে পারি পন্ডিত মশাই রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের মতোই বই লেখেন। তিনি একজন বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক। তাঁর রচিত সে সময়ের বিখ্যাত গ্রন্থগুলো হলো- গুজরাতি হাতি, জ্যান্তে দাহ ও মৎস্য কন্যার দেশে। এছাড়াও লিখেছেন কয়েকটি নাটক। পরবর্তীতে “পাঁচবিবি” নামক একটি মৌলিক নাটক লিখেছেন যা’ তিনি তৎকালীন দিনাজপুর জেলা স্কুলের ছাত্রদের দিয়ে নাট্য সমিতির মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে মঞ্চস্থ করেছেন। এই নাটকটির পরিচালকও ছিলেন তিনি। নানা বর্ণাঢ্য গুণে সমৃদ্ধি ছিল তাঁর শিক্ষকতার জীবন। তিনি জেলা স্কুলের সামনে একটি গোলাপ ফুলের বাগান করেছিলেন। তাছাড়াও তিনি ছিলেন ফুটবলপ্রেমী। আন্ত:স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় তিনি দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করতেন সর্বদাই। তাই আমরা তাঁকে ফুটবল খেলার সময় বড় মাঠে সর্বদাই উপস্থিত থাকতে দেখতাম।
তিনি পাকিস্তান স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর জেলা স্কুলে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। শৈশবকালে গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য সম্ভবত ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দিনাজপুর বাংলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন বলে জানা যায়। আমার প্রিয় স্যার ও আমি দু’জনেই বাংলা স্কুলের ছাত্র ছিলাম এতে এখনো আমি নিজেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত ও গৌরবান্বিত মনে করি।
আমাদের স্যারের সঙ্গে তাঁর শৈশবের বাংলা স্কুলের অন্তরঙ্গ সহপাঠী বন্ধু ছিলেন বাংলা সাহিত্যের আরেকজন খ্যাতিমান দিকপাল সাহিত্যিক ও কৃতি ছাত্র স্বনামধন্য নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। দু’জনই লেখাপড়া করেছেন বাংলা স্কুলে। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে স্যারের শৈশবের বাংলা স্কুলের অনেক মধুর স্মৃতি। তিনি পরবর্তীতে তাঁর লেখায় এটি উল্লেখ করেছেন।
আজ দিনাজপুর বাংলা স্কুলের আরেক কৃতি ছাত্র সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের কীঞ্চিৎ জীবনী তুলে ধরবার মানসে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। অতীত ইতিহাসের গৌরবোজ্জল দিনাজপুর বাংলা স্কুল কালের সাক্ষী হয়ে আজও সমভাবে উজ্জ্বল জ্যোতিস্কের মতই দেদীপ্যমান।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। “নারায়ণ” তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ফেব্রæয়ারি তৎকালীন বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায়) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক আদি নিবাস ছিল বরিশাল জেলার বাসুদেবপুর নলচিরায়। পিতা প্রমথ নাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন সেকালের নামকরা দারোগা। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় শৈশবকালে দিনাজপুর বাংলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর জেলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হলেও রাজনৈতিক কারণে ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ১ মে তাঁকে ফরিদপুর ত্যাগ করতে হয় এবং রিভোলিউশনারি সাসপেক্ট হিসেবে অন্তরীণ থাকার কারণে তিনি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারেন নি। পরে তিনি বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে দ্বিতীয় বার্ষিকী শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং নন-কলেজিয়েট ছাত্র হিসেবে আই.এ পাস করেন ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে। একই কলেজ থেকে তিনি ডিষ্টিংকশন সহ বি.এ পাস করেন ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তীতে ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। এম.এ পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করায় তিনি “ব্রহ্মময়ী স্বর্ণপদক” লাভ করেন। পরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প বিষয়ে গবেষণা কর্মের জন্য ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় আনন্দ চন্দ্র কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর জলপাইগুড়ি কলেজ (১৯৪২-১৯৪৫ খ্রি.) ও সিটি কলেজে (১৯৫৪-১৯৫৫ খ্রি.) অধ্যাপনা করার পর ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্য চর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্যদিয়ে। কালক্রমে তিনি গল্প, উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হলো- উপন্যাস উপনিবেশ (৩ খন্ড, ১৯৪৪-৪৭ খ্রি.), সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী (১৯৪৪ খ্রি.), মন্দ্রমুখর (১৯৪৫ খ্রি.), শিলালিপি (১৯৪৯ খ্রি.), লালমাটি (১৯৫১ খ্রি.), কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫১ খ্রি.), বৈতালিক (১৯৫৫ খ্রি.), অসিধারা (১৯৫৭ খ্রি.), গল্পগ্রন্থ ট্রফি (১৯৪৯ খ্রি.), বিদূষক (১৯৫৯ খ্রি.), বীতংস, জন্মান্তর, ভাঙ্গাবন্দর, দু:শাসন, ভাটিয়ালী (১৯৫৭ খ্রি.), একজিবিশন (১৯৬১ খ্রি.), ছায়াতরী, ঘুর্ণী, আলেয়ার রাত, প্রবন্ধ সাহিত্য ও সাহিত্যিক (১৯৫৬ খ্রি.), সাহিত্যে ছোটগল্প (১৯৫৬ খ্রি.), কথা কোবিদ রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৫ খ্রি.), ছোটগল্পের সীমারেখা (১৯৬৯ খ্রি.), রম্য রচনা সুনন্দর জার্নাল (১৯৬৬ খ্রি.), কিশোর গ্রন্থ সপ্তকান্ড, অন্ধকারের আগন্তুক, ছোটদের গল্প (১৯৫২ খ্রি.), ছুটির আকাশ, খুশির হাওয়া, ঝাউ বাংলার রহস্য, পঞ্চাননের হাতি, পটল ডাঙ্গার টেনিদা, গল্প বলি গল্প শোনো, অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ, টেনিদার অভিযান (১৯৪১ খ্রি.) ইত্যাদি। তাঁর রচিত সফল নাটক ভাড়াটে চাই, রামমোহন, আগন্তুক সে সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য ও রচনা করেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে তাঁর বহুগান চলচ্চিত্রেও রেকর্ডে গৃহীত হয়েছে।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় সজনীকান্ত দাসের সম্পাদিত বিখ্যাত “শনিবারের চিঠি”র নিয়মিত লেখক ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি কলকাতার সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় “সুনন্দ” ছদ্মনামে লিখতেন। ইতিহাসবোধ ও স্বাদেশিকতা তাঁর রচনার প্রধান উপজীব্য।
বাংলার নিসর্গ ও নদ-নদীর তরঙ্গমালা বাঙালির আদিম ও আরণ্যক জীবন তাঁর উপন্যাসে রোমান্টিকতার নিরিখে মনোজ্ঞভাবে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর ছোটগল্পগুলি সু² জীবনবোধ, সংযত প্রকাশভঙ্গি ও ভাবের তীব্র একমুখিতা এবং নাটকীয় ব্যাঞ্জনায় সমৃদ্ধ।
বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে আনন্দ পুরস্কার ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ ও “সাপ্তাহিক বসুমতি” পত্রিকার পক্ষ থেকে তাঁকে সংবাদ ও সাহিত্যের জন্য ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। শেষ বয়সেও তিনি বাংলা স্কুলের খবর নিতেন তাঁর ক্লাসের অকৃত্রিম বন্ধু গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য যখন কলকাতায় বেড়াতে যেতেন কোনো উপলক্ষে।
এই মহৎপ্রাণ সাহিত্যিক ও অধ্যাপক ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ নভেম্বর তাঁর নিজ বাসভবন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আজীবণ আমাদের দিনাজপুরবাসীর হৃদয়ে চির অম্লান ও অক্ষয় হয়ে থাকবেন।
পরিশেষে বলা যায় তৎকালীন শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল) প্রাক যুগেই এক ঐতিহ্যবাহী গৌরবমন্ডিত প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। যার ফলশ্রæতিতে আমরা পেয়েছি গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মহান নিবেদিত শিক্ষক ও বিখ্যাত সাহিত্যিকদ্বয়কে। তাঁদের দু’জনের সংস্পর্শে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল (বাংলা স্কুল) চিরকাল স্মরণীয় ও ধন্য হয়ে থাকবে।
লেখক : মো. জোবায়ের আলী জুয়েল, একজন সাহিত্যিক, কলামিস্ট, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রাক্তন ছাত্র বাংলা স্কুল, দিনাজপুর।
আমন্ত্রণ/এসিজি
১৬৭ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান : দিনাজপুর বাংলা স্কুলের কৃতী ছাত্র গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
জানুয়ারি ৪, ২০২৫


































