গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলির প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নেই কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকায় বন্দরে স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। বিশেষ করে কাঁচামাল সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক, যাত্রী ও এলাকার পথচারীরা।
প্রতিদিন হিলির সড়ক দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক, দেশীয় পণ্যবাহী ট্রাক, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। কিন্তু হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় ও টেম্পোস্ট্যান্ড মোড়ে কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।
জানা গেছে, সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভ্যান রাখা থাকে। আমদানীকৃত পণ্যবাহী ট্রাকগুলো প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। বাস, ট্রাকসহ রিকশা ও ইজিবাইকচালকরা যে যার মতো গাড়ি চালান। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার হতে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে হয়। বিড়ম্বনায় পড়তে হয় হাসপাতালে রোগীদের যেতেও।
স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমি ফেরদৌস আলী খান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ি। আমাদের স্কুল শুরু হয় সকাল ৯টায়। হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় থেকে সিপি পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক না থাকায় যানজট লেগেই থাকে। দুই-এক ঘণ্টায়ও সেটি সমাধান হয় না। ফলে স্কুলে যেতে দেরি হয়। আবার সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় স্যারদের বকুনি খাই।’
স্থানীয় এলাকাবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা খুব ব্যস্ততম একটা মোড়। এ মোড় দিয়ে বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক যেমন যাতায়াত করে, তেমনি অন্যান্য জেলার সব ট্রাক-বাস যাতায়াত করে থাকে। এখানে যদি একটা ট্রাফিক শৃঙ্খলা থাকত তাহলে যানজট হতো না।’
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহীনুর ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘হিলি হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্র। এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বা রফতানি ব্যবসা হয়। ভারত থেকে যেমন পণ্যবাহী ট্রাক আসে, তেমনি বাংলাদেশী অনেক ট্রাক বন্দরে আসে পণ্য নিতে। এছাড়া দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর এ এলাকার অনেক গাড়ি হিলির ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। মোটামুটি বলা চলে হিলি একটা ট্রানজিট রুট। তাই এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে স্থায়ী কোনো ট্রাফিক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এ জ্যামের মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে বিকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত। অনেক সময় বিভিন্ন মালামাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার মধ্যে আটক থাকে। এগুলো ঠিকমতো বা সঠিক সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না। এতে মালামাল পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। এখানে প্রতিনিয়ত ব্যবসার কাজে সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ লোকজন যাতায়াত করেন। ভারত থেকে মালামাল আসে, এখান থেকে আবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য আনা-নেয়া করা হয়। জেলা সদর থেকে এখানকার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। মাঝে মাঝে আমাদের ট্রাফিক পুলিশ এসে এখানে কাজ করে। তবে তারা স্থায়ীভাবে থাকে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর আগে কথা বলেছি। এখানে স্থায়ীভাবে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করতে আবারো কথা বলব।’
আমন্ত্রণ/এজি
হিলি স্থলবন্দরের ব্যাস্ততম সড়কে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যে
জুলাই ১১, ২০২৬
































