হিরেন্দ্রনাথ বর্মন হিরু ও নূরে আলম সিদ্দিকী :
ঢাকার ইপিআই ল্যাব থেকে সময় মতো রিপোর্ট না আসায় রোগীর লক্ষণ দেখে অনুমান নির্ভর চিকিৎসা দিচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সন্দেহভাজন হাম রোগীদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ৮ জন শিশু এবং একজন নারীসহ ৯জনকে সন্দেহভাজন হামের রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা হামে আক্রান্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৯জনের রক্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকার ইপিআই সেন্টারের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ মার্চ মাহির হোসেন (৫) নামের এক শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাতে তাকে হাম মুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। মাহির হোসেন ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। ২৬ মার্চ সকালে মাহির হোসেন অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সন্দেহভাজন হামের রোগী মনে করে হামে সে আক্রান্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওইদিনই তার রক্ত ঢাকায় ইপিআই সেন্টারের ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।
একই সময়ে আরও ৭ জন শিশু সন্দেহভাজন হামের রোগী হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে তাদেরও রক্ত পাঠানো হয়েছে ঢাকার ল্যাবে। কিন্তু এখনও তাদের কোনো প্রকার রিপোর্ট না আসায় এনিয়ে পরিবারের লোকজন চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন।
এদিকে গত ৭ এপ্রিল হামের লক্ষণ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার শাহজাহানপুর (রঘুনাথপুর) গ্রামের রিপনের স্ত্রী আলবিনা (১৯)। তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোয়ালেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে আলবিনাকে সুস্থ করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে। তবে তার রক্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে হামে আক্রান্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিনই হামের সন্দেহভাজন রোগী আসছেন, তবে এদের মধ্যে যাদেরকে অবস্থা তুলনামূলক খারাপ থাকছে তাদেরকে হামের অনুমান করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোয়ালেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আলবিনা নামের এক গৃহবধূকে। সে সুস্থ হয়ে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বাড়ী চলে গেছেন। তবে তার রক্ত সংগ্রহ করে সেটি ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসলে জানা যাবে আসে আলবিনা হামের আক্রান্ত কি না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত কোনো শিশু বা বয়স্ক কেউই সনাক্ত হননি। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন তাদেকে চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তারা হামে আক্রান্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকায় রক্ত পাঠানো হচ্ছে। একজন নারী ও ৮ জন শিশুর রক্ত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে মাহির হোসেন নামের এক শিশুর রিপোর্ট এসেছে। তাতে সে হাম মুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখন ৮ জনের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
আমন্ত্রণ/এজি


































