মুকুল বসু বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক :
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, শ্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীর এর ৭২ তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যে কবিতাচর্চা এবং কবিতাপাঠের ইতিহাসে নাজমুল হক নজীর একটি স্বতন্ত্র নাম। দ্রোহ, রোমান্টিকতা আর বাংলার প্রকৃতিকে ধারণ করে তিনি আমাদের অনন্য অসাধারণ কবিতা উপহার দিয়েছেন । কবিতার পাঠককে তিনি একদিকে যেমন সমাজের নানা অসঙ্গতি প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন অন্যদিকে রোমান্টিকতা ও প্রকৃতিপ্রেমে পরশ বুলিয়ে স্বপ্নচারী হতে শিখিয়েছেন।
একজন কবি পাঠককে পরিশুদ্ধ চিন্তা ও মনন তৈরি করেন। এদিক থেকে কবি নাজমুল হক নজীর সফল ব্যক্তি। সত্তর দশকের এই স্বতন্ত্র কাব্যসাহসী কণ্ঠস্বরকে তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা সাহিত্যের অগণিত পাঠক ও অনুরাগী। স্বপ্ন, সততা আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার একনিষ্ঠ এই পূজারী তাঁর লেখনীর মাধ্যমে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বেলেছিলেন, তা আজও অম্লান। কৈশোরেই যিনি দেশমাতৃকার টানে সাড়া দিয়ে একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে। যুদ্ধের সেই অভিজ্ঞতা ও চেতনা তাঁর সাহিত্য জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। পরবর্তীকালে তাঁর কবিতায় বারবার সেই গৌরবময় দিনগুলোর প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। নাজমুল হক নজীরের কবিতা ছিল একাধারে ব্যক্তিগত স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি এবং বৃহত্তর পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতার শৈল্পিক উচ্চারণ। তিনি তাঁর পঙ্ক্তিমালায় জীবনের গভীরতম অনুভব, দ্রোহ এবং রোমান্টিকতাকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল মাটি ও মানুষের কাছাকাছি, যা সহজেই পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিত। যেমনটি তিনি লিখেছেন-
“শুধু তোমাকেই দেখি স্বপ্নের পেয়ালায় মুখ / অথচ থালার মতো আকাশটাই / তাকিয়ে আছে আজ পৃথিবীর দুধভাতে।” এই চরণগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা একাকার হয়ে গেছে। সমাজের নানা অবক্ষয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের এক শাণিত হাতিয়ার। একারণেই তিনি অর্জন করেছিলেন ‘শ্লোগানের কবি’ উপাধি। তাঁর কবিতা কেবল সাহিত্যই ছিল না, ছিল অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ উচ্চারণ।
তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘নোনা জলের বাসিন্দা’, ‘স্বৈরিণী স্বদেশ’, ‘কালো জোছনার এক চুমুক’ এবং ‘ভিটেমাটি স্বরগ্রাম’। এই গ্রন্থগুলো বাংলা কাব্যসাহিত্যে তাঁকে এক স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। জন্মদিনের এই শুভক্ষণে, দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় ও আপোষহীন চেতনার কবি নাজমুল হক নজীরকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। বাংলা কবিতায় তাঁর মানবতাবাদী দর্শন ও সৃষ্টিশীলতার যে স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর স্বপ্ন ও দ্রোহের বাণী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধ্বনিত হবে এই বিশ্বাস অমূলক নয়।
আমন্ত্রণ/এজি
শ্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীর এর ৭২ তম জন্মদিন
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬






























