আতাউর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যথাযথভাবে রোপা আমন চাষে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে কৃষকদের নিয়ে ১২৫০ টি উঠান বৈঠকের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত গোটা উপজেলা জুড়ে ৫৫০টি উঠান বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই কৃষক-কৃষাণী অংশ গ্রহণ কৃষি বিষয়ে ক্রপস জয়েনিং প্রজেক্টের আওতায় এ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। আমন ধানের পোকা নিধন, অতিরিক্ত সার, কীটনাশকের ব্যবহার রোধ, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ব্যবহার ও মাটির প্রয়োজনীয় ১৭টা উপাদান সম্পর্কে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এ পর্যন্ত ৫৫০ উঠান বৈঠক করছে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের আক্রমণ থেকে আমন ধানের ক্ষেত রক্ষার কৌশল হাতে কলমে শেখাতে অনলাইনে কৃষি বিভাগের ‘খামারি অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে উঠান বৈঠকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব উঠান বৈঠকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ কৃষক-কৃষানী অংশ গ্রহন করছে। উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩১ বøক মিলে উপজেলায় ৮৬ হাজার ৬০১ কৃষক রয়েছেন।
পার্বতীপুর উপজেলার সিনিয়র উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মো. আবু সুফিয়ান বলেন, কৃষকরা এই সব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগ ও ব্যবহার করে অল্প পরিশ্রমে, কম খরচে ও বিষমুক্ত দ্বিগুণ পরিমাণ ফসল উৎপাদন করেত পারবেন। সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের জন্য পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিগুলো উদ্ভাবন ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ব্যবহার ও মাটির ১৭ টা উপাদান বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এবার উপজেলায় ২৮ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পার্বতীপুর পৌরসভার মীরপাড়া গ্রামে মাঠ পর্যায়ে কৃষক প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ধানের সর্বোচ্চ ফলন পেতে কৃষকদের সচেতন করতে উপজেলা জুড়ে উঠান বৈঠক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব বৈঠকে কৃষকদের ধান চাষে পরিমিত সার ও সঠিক কীটনাশক ব্যবহারে সচেনতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ধারণা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ধান চাষে পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনুসরণ, ক্ষেতে পাখি বসার জন্য ডাল পুঁতে দেওয়া (পার্চিং), লাইন করে রোপা লাগানো, সঠিকভাবে সার ও বালাইনাশক ছিটানোর সুবিধার জন্য লোগো পদ্ধতি অনুসরণ অর্থাৎ প্রতি ১০ লাইন পর পর কিছু অংশ ফাঁকা রাখা, জমিতে জৈব সার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও খামারী এ্যাপস অনুসরণ করে, ধান চাষে পরামর্শ দেয়া হচ্ছ বলে তিনি জানান।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাজিব হুসাইন বলেন, চলতি রোপা আমন ক্ষেতের রোগ ও পোকা আক্রমণের লক্ষণ কৃষকদের অভিহিত করাসহ মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার রোধ এসব উঠান বৈঠকের লক্ষ্য। এছাড়া সরকারি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। কৃষকদের মাঝে উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তিগুলো বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া লক্ষ্যে উঠান বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠক।
তিনি বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে কৃষকদের সঠিক ধারণা দেওয়ার জন্য এসব বৈঠকে পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে এ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে ফসল তোলা শুরু হওয়ার আগেই এ কর্মসূচি শেষ করা সম্ভব হবে।
আমন্ত্রণ/এজি
পার্বতীপুরে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উঠান বৈঠকের উদ্যোগ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
































