গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ :
শীত আসছে তাই সরগরম হয়ে উঠছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর হোসিয়ারী পল্লী। শীতে ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় তৈরি হচ্ছে মোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, কার্টিগেনসহ রকমারি নানা আইটেমের শীতবস্ত্র। দম ফেলার সময় নেই কারিগর থেকে শুরু করে কারখানা মালিক পর্যন্ত। যদিও আধুনিক পোশাক তৈরীতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সয়ংক্রিয় মেশিন যুক্ত হলেও ব্যস্ত সময় পার করছে হস্তচালিত মেশিনের এই এলাকার কয়েক হাজার শ্রমিক। প্রতিবছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাস ট্রাকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায় এসব শীতবস্ত্র। এবারের শীতে মৌসুমে বিক্রি ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা কারখানা মালিকদের।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শীতের পেষাক তৈরি করতে গড়ে উঠেছে ছোট বড় কয়েক হাজার হোসিয়ারী কারখানা। এবারো শীত আসার আগেই সরগরম হয়ে ওঠেছে এই হোসিয়ারী পল্লী। প্রতিটি কারখানায় পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে নারী শ্রমিকরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছে আধুনিক ডিজাইনের মোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, কার্টিগেন, কান টুপি, আশিক টুপি সহ রকমারি নানা আইটেমের শীতের পেষাক। অত্যাধুনিক ডিজাইনের সকল প্রকার শীতবস্ত্র তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন এখানকার কারখানা গুলো। শ্রমিকদের দক্ষ হাতে তৈরি করা রকমারী পোশাক দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটাচ্ছে। আগামী শীত মোকাবেলায় বাজারে চাহিদা পূরণে প্রস্তুত রয়েছেন কারখানা মালিকরা। তবে তাদের এই কাজে কিছুটা বিভ্রাট করেছে বিদ্যুতের লোডশোডিং।
উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পেপুলিয়া, বনগ্রাম, কানাইপাড়া, রতনপুর, শক্তিপুর, ছয়ঘরিয়া গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী চারদিকের অর্ধশতাধিক গ্রামে এ শিল্পের বিস্তার লাভ করেছে। গ্রাম গুলোর প্রতিটি বাড়িতে ছোট বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। যেখানে নারী পুরুষ মিলে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছে। ধারনা করা হচ্ছে এবারের শীতে ৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র উৎপাদিত হয়েছে এবং শীত হলে ব্যবসায়িদের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
রাজশাহীর বাঘা থেকে আসা গরম কাপড় কিনতে আসা পাইকারী ব্যবসায়ি মাহাবুব হোসেন বলেন প্রায় ২০ বছর ধরে শীত মৌসুমে এখান তৈরি শীতবস্ত্র কিনে তার এলাকায় বিক্রি করছি। এখান তৈরী সকল শীতবস্ত্র মান সম্মত।
পাকিস্তান শাসনামলে পেপুলিয়া গ্রামের এক যুবকের হাত ধরে এখানে সূত্রপাত ঘটে এই হোসিয়ারী শিল্পের। পর্যায়ক্রমে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র শিল্পটি পুরো এলাকায় গড়ে ওঠে। এখন দেশের সর্বমোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ শীতবস্ত্র উৎপাদন করছে এ এলাকার ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট, চলাচল অযোগ্য রাস্তা কারণে নানা সমস্যায় ভুগছে এলাকার হোসিয়ারী শিল্পের ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রæত গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কের কোচাশহর বন্দর এলাকার সড়ক সংস্কার এবং কোচাশহর বন্দর থেকে নয়ারহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়েছে।
গাইবান্ধা বিসিক এর সহকারি ব্যবস্থাপক রবীন চন্দ্র রায় বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহরে যে হোসিয়ারী শিল্প গড়ে উঠেছে আমার সেখানে নানা ধরণের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়িরা চাইলে সম্ভাব্য যেকোন সহায়তা দেয় হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
শীত আসছে তাই সরগরম গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহরের হোশিয়ারী পল্লী : এবার গরম কাপড় বিক্রি ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে
নভেম্বর ১১, ২০২৪


































