৩২ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণকে মানবিক কারণে বিশেষ প্রজ্ঞাপনে বা বিশেষ ক্ষমতাবলে “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১”এ অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও প্রদানের আবেদন প্রসঙ্গে।
কোটা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল বীর শহীদের মাগফিরাত কামনা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজসমুহে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে শতভাগ বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও নিয়োমিত পাঠদানরত শিক্ষক। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েও অদ্যাবধি বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এবং সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর অধ্যায় ০৮, কে․শল ০৬ (পর্যায়ক্রমে ডিগ্রি পাস কোর্স তুলে দিয়ে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স চালু করা হবে) বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কলেজে উচ্চশিক্ষায় পাঠদানরত আছি। বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে আমরা এমপিওভুক্তির দাবী জানাচ্ছি। ১। বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও ৩২বছর ধরে বিগত সৈরাচারী সরকার “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালা-২০১৮-২০২১” -এ অন্তর্ভুক্ত করেনি বা কোন নির্দেশনাও দেয়নি, ফলে আমরা এমপিওভুক্ত হতে পারছিনা, ফলে ৩,৫০০জন শিক্ষক আর্থ-সামাজিক ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ২। আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, ডিগ্রি (পাশ) কোর্সের ৩য় পদের শিক্ষকগণ “জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালা-২০১৮ তে” না থাকলেও তারা ২০২১ এর “জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালায়” অন্তর্ভুক্তি হয়ে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। তাহলে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকগণ ‘জনবলকাঠামোভুক্ত না হওয়ার অদৃশ্য কারণ কি? ৩। একই কলেজে একই নিয়মে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন আর আমরা কিছু শিক্ষক নন-এমপিও, যা মানবতা বিরোধী ও চরম ক্সবষম্য, এ ক্সবষম্যের অবসান চাই। ৪। অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকগণকে “জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায়’’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে একাধিকবার নির্দেশনা থাকলেও অদৃশ্য কারণে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। (সুত্র:১) আবুল কালাম শামসুদ্দিন-পরিচালক স্বাক্ষরিত তারিখ-১৯/২/১৫ইং পত্রনং ০৩.০৭৪.০৪৮.০০.০০১.২০১৫/৭৬ (সৃত্র-২) আল মামুন মোর্শেদ পরিচালক-৭ স্বাক্ষরিত তারিখ-২৫/৪/২০১৯ইং পত্র নং ০৩.০৭৪.০৪৮.০০.০০৪.২০১৯/১৩৩ ৫। ২৮/১২/১৯৯৩ সালে বিজিবি কলেজ,ঘাটাইল-টাঙ্গাইলের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের ০৮জন শিক্ষককে বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। সুত্র-পত্র নং-১৩/৯হি.৪২/৯২/১৩২৭ তারিখ-২৮/১২/৯৩ইং মীর শওকত আলী সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত। ৬। মাদ্রাসা কারিকুলামে কামিল শ্রেণি যা মাস্টার্সের সমমান এমপিওভুক্ত হলে জেনারেল শিক্ষায় বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সকে এমপিওভুক্ত করা সময়ের দাবী। ৭। বর্তমানে মাত্র বার্ষিক ১০৪ কোটি ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেই বর্তমানে ৩,৫০০ জন অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব।তৎকালীন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, ৮৮,৮৬,৯০,০০০টাকা বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ হবে মর্মে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিলেন। স্মারক নং- ৩৭.০২.০০.০০.১০৫.০৭০.১৫/৮২৩৬ তারিখ-১৪/১০/২০১৫খ্রি: ৮। এমপিওভুক্তির জন্য হাইকোর্টে বিভাগে রীট করা হলে (রীট নং ১১৭৯৭/২০১৬) হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি জনাব,আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জনাব কামাল কাদের এমপিওভুক্তির আদেশ দেন, কিন্তু তৎকালীন ‣ষ¦রাচারী শেখ হাসিনা সরকার আপিল বিভাগের উপর প্রভাব বিস্তার করে কোন শুনানীর সুযোগ না দিয়ে তৎকালীন আপিল বিভাগ কর্তৃক ফরমায়েশি রায দিয়ে হাইকোর্টের রায়কে বাতিল করায়, যা সত্তিই দু:খজনক এবং অনাকাক্ষিত। ৯। ৯ম জাতীয় সংসদের শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১নং সাব কমিিিটর সুপারিশমালার (ছ) অনুচ্ছেদের ১৩ধারায় এমপিওভুক্তির সুপারিশ করা হয় এবং ১০ম জাতীয় সংসদের শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৩তম ‣বঠকে এমপিওভুক্তির সুপারিশ করেন। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজসমূহে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণকে মানাবিক কারণে হলেও ‘জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালা’২০২১ এ অন্তর্ভুক্ত করে ৩২বছরের ক্সবষম্যের অবসানের লক্ষ্যে বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত করা সমযের দাবী। ১০। অতি সাম্প্রতিকালে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স সম্বলিত অনেক ডিগ্রি কলেজ (প্রায়-২২০টি) সরকারিকরণ হয়েছে, ক্সবধভাবে নিযোগপ্রাপ্ত হওয়ায় অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকগণও আতœীকরণ হয়েছেন। সুতরাং ক্সবধতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হওয়া আমাদের ন্যায্য দাবী। ১১। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা রাজ‣নতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক এমপিওভুক্তির জন্য তথ্য-উপাত্তসহ মতামত/সুপারিশ চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমপিওভুক্তির সুপারিশ না করে বরং মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমাদেরকে দুরে ঠেলে দিয়েছেন। সুত্র- শিম/শা-১১/বিবিধ (প্র:ম:কা:)৩/২০০৯/১০৪ তারিখ-২৩/৩/২০১৪ইং লায়লা আরজুমান্দ বানু উপ-সচিব(বিশ্বদ্যিালয়-২) স্বাক্ষরিত। কিন্তু শত অনুরোধ করার পরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজও কোন সুপারিশ পাঠাননি। অথচ সুপারিশ পাঠানো কর্তৃপক্ষের ক্সনতিক ও দাফতরিক দায়িত্ব ছিল। আমাদের দাবীসমুহ: ১। “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালা-২০২১”এ অর্ন্তভুক্তকরত: এমপিও প্রদান করে যোগদানের তারিখ হতে অভিজ্ঞতা গণনা করতে হবে। ২। সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে। (যেমন-বিভাগীয় প্রধান, প্রশিক্ষক, উপাধ্যক্ষ,অধ্যক্ষ হওয়ার সুযোগ প্রদান করা।) ৩। আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ কামনা করি এবং তার হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনেকরি। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারি নোবেল বিজয়ী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ড.মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত। তাদের দ্বায়িত্বপূর্ণ পদে অভূতপূর্ব অবদানকে সামনে রেখে ক্সবষম্যের অবসানে আজকের মানববন্ধন হতে আপনাদের মাধ্যমে দাবিসমুহ মেনে নিয়ে অতিসত্বর বাস্তবায়ন করার উদাত্ত আহব্বান জানাচ্ছি।
শিকার বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যেগে এমপিও ভূক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন
আগস্ট ২৯, ২০২৪
































