আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদী ঘেঁষা ভান্ডারবাড়ি গ্রামে দুই দিনব্যাপী জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বান্নি মেলা। বৃস্পিতিবার (৩ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই লোকজ মেলাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ, যার ছোঁয়া লাগে প্রতিটি পরিবারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর চৈত্র মাসে স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই মেলার। পুরনো ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই সময় আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে একত্র করার একটি সামাজিক উপলক্ষ হিসেবেই দেখা হয় এই মেলাকে। বিবাহিত মেয়েরা স্বামী-সন্তান নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। যারা কর্মসূত্রে দূরে আছেন, তারাও ছুটি নিয়ে ছুটে আসেন আপন ঠিকানায়। বাড়িতে বাড়িতে ভাজা হয় মুড়ি, খই, মুড়কি—সৃজিত হয় এক আন্তরিক আবহ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এলাকা। বাহারি সব পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন বিক্রেতারা। শোলার ফুল, মাটির পুতুল, কাঠের একতারা, বাঁশের বাঁশি, বিভিন্ন মাটির বাসনপত্র, ঘরগৃহস্থালির জিনিস, দেশি খাবার—মুড়কি, মোয়া, মিঠাই, বাতাসা, লাল গুড়ের জিলাপি—সবই পাওয়া গেছে মেলায়। শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল নাগরদোলা ও নানা ধরনের খেলনার ব্যবস্থা।
স্থানীয় গৃহবধূ সানজিদা আক্তার পলি বলেন,প্রতি বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। এই মেলায় সবাই মিলে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, পুরোনো দিনের কথা হয়। মেলাটি গ্রামের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। খাবার বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, আমার দাদা-নানারাও এ মেলায় আসতেন। আমি তাদের পথ অনুসরণ করছি। গ্রামীণ নানা খাবার নিয়ে এসেছি বিক্রির জন্য।
ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু জানান, “প্রায় শত বছর ধরে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। শুরুতে এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বান্নি মেলা এখন আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সামাজিক সংহতির প্রতীক। মেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সকলের আন্তরিকতায় ধুনটের এই শতবর্ষী বান্নি মেলা হয়ে উঠেছে আনন্দ, মিলন ও ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষর।
আমন্ত্রণ/এসিজি
শতবর্ষী বান্নি মেলায় উৎসবের রঙে রঙিন যমুনা পাড়ের ধুনটের ভাণ্ডার বাড়ী
এপ্রিল ৫, ২০২৫


































