আজহার ইমাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পুলিশ বক্সের অদূরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের শালবাগান মোড় (টিবি), ব্যাটারি কারখানা সংলগ্ন বিরামপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পুলিশ বক্স ও বিট কার্যালয় থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে।
ভুক্তভোগী মানিক দত্ত জানান, তিনি ফুলবাড়ী পৌরশহরের ‘মিষ্টি জুয়েলার্স’-এর স্বত্বাধিকারী। ভাঙারি স্বর্ণ (আংটি, চেইন, বালা, নাকফুলসহ বিভিন্ন অলংকার) পরিশোধনের জন্য বিরামপুরে এনে তা খাঁটি স্বর্ণের পাত তৈরি করেন। পরে প্রায় ৬ ভরি ৪ আনা ২ রতি ৭ পয়েন্ট (প্রায় ৬৬.৫০ গ্রাম) স্বর্ণ নিয়ে কর্মচারী সোহেল রানাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ফুলবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথিমধ্যে শালবাগান এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। পরে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সোহেল রানার কাছ থেকে মানিব্যাগ (নগদসহ) এবং মানিক দত্তের কাছ থেকে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। এ সময় সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—আল রেহমান অরুণা (২০), আরিফুল ইসলাম আরিফ (২০), সানি (১৯), রিফাত (২৫) ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিক (১৯)। এছাড়া সাগর রহমান (২৪) ও ইউপি সদস্য সোহেল রানার (৪২) নামও আলোচনায় এসেছে। ঘটনায় আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে আশিক হাসান বিরামপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক বলে নিশ্চিত করেছেন দলের পৌর শাখার সদস্য সচিব আরিফুর রহমান রাসেল।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের দিনাজপুর জেলা আহবায়ক রাসেল আলী চৌধুরী লিমন ও সদস্য সচিব সাইফুল আজম সোহেল পৌর শাখার যুগ্ম আহবায়ক আশিককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, “ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বক্সের অদূরে এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
আমন্ত্রণ/এজি
































