প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া :
শীতের সঙ্গে পিঠা-পুলির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শীত মানেই পিঠাপুলির আসর। হোক না বাড়িতে না হয় ফুটপাতে। শীতকালে পিঠার স্বাদ নিতে সবাই চায়। সেই পিঠার পসরা নিয়ে বসেছেন বেগুনী বেগম। বগুড়া শহরের খান্দার বাজারের শাপলা চত্বর সংলগ্ন স্টেডিয়াম ফাঁড়ির সামনে টানা ৩০ বছর ধরে তিনি পিঠা বিক্রি করছেন। প্রতি বছর আশ্বিনের শুরুতেই স্বামী ইদ্রিস ব্যাপারী আর সঙ্গে কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে পিঠার তৈরির দোকান সাজিয়েছেন তিনি। ব্যবসা চলে মধ্য ফাল্গুন পর্যন্ত। গোড়ার দিকে স্বামী-স্ত্রী দুইজন একটি মাত্র চুলো নিয়ে পিঠা বিক্রি শুরু করলেও এখন তাদের অন্তত ৮টি চুলোয় পিঠা তৈরির জন্য আগুন জ্বলে। এই দম্পতির সঙ্গে মোট ৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিদিন বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ থেকে হাজার টাকার পিঠা। শুক্রবার বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি।
বেগুনী বেগমের দোকানে যারা কাজ করেন তাদের কেউ পিঠা বানানো, আবার কেউ ক্রেতাদের পিঠা পরিবেশনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বেগুনী বেগমও পিঠা বানান। তিনি তেল পিঠা ভাজেন। তার স্বামী চিতই পিঠা তৈরি করেন। ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ভাজেন ডিম পিঠা। ঝাল কুশলি, মিষ্টি কুশলি, তেলপিঠা, চিতই পিঠা বিক্রি করা হয় বেগুনী বেগমের দোকানে। ক্রেতারা বেগুনী বেগমকে ‘বেগুনী খালা’ সম্বোধন করেই ডাকেন। তবে পিঠার তালিকায় এবার যোগ হয়েছে নতুন আইটেম ডিম পিঠা। দাম ৩৫ টাকা।
পিঠা ক্রেতারা জানালেন, শহরের বিভিন্ন এলাকাতেই পিঠা বিক্রি করা হয়। কিন্তু বেগুনী খালার পিঠার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো। তাই বন্ধু-বান্ধবরা একত্র হলেই এদিকটাই চলে আসি পিঠা খেতে। এ ছাড়া, এখানকার পরিবেশও ভালো। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং পিঠা খাওয়া দুটোই একসঙ্গে হয়ে যায়।
জাকির হোসেন নামে অপর একজন ক্রেতা জানান, তিনি বাড়ির জন্য দশটি চিতই পিঠা কিনতে এসেছেন। চিতই পিঠাগুলো আজ রাতে দুধে ভিজিয়ে রাখা হবে। চিতই ভাজতে সময় লাগছে তাই তিনি একটি ঝাল এবং একটি মিষ্টি কুশলি কিনে খেয়ে অপেক্ষা করছেন গরম গরম পিঠার ব্যাগ হাতে নেওয়ার জন্য।
পিঠা দোকানি বেগুনী বেগম বলেন, তার পিঠার দোকানে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা এমনকি ৩৫ টাকা দামের পিঠা রয়েছে। কুশলি ও ডিম চাপড়ি পিঠা বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি চালের আটার পিঠা তৈরি হয়। দিনে বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ থেকে হাজার টাকা পিঠা। কর্মচারীদের প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ টাকা বেতন দিতে হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় ৩০ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন বেগুনী বেগম দিনে বিক্রি ১০ হাজার টাকা!
জানুয়ারি ৮, ২০২৫


































