বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে প্রতিষ্ঠান খুলে গ্রাহকদের লোভনীয় অফার দিয়ে ২০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকা না পেয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাবিনা আহম্মেদ নামে এক গ্রাহক বাদি হয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান আশিকুর রহমানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করেছে।এর আগে সোমবার বিকেল শহরের কাটনারপাড়া শিববাটি বিগবাজারে প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে স্থানীয় গ্রাহকরা তিন জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় তাদেরতে গ্রেফতার দেখিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে তৌফিক হাসান (৩৩), শহরের ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বুদু আকন্দের ছেলে রেজাউল করিম (৫০), ও একই এলাকার আশিকুর রহমানের স্ত্রী রিতু জাহান ((২৯)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়ার শিবগঞ্জের বিহার হাট দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে আশিকুর রহমান ৮ থেকে ১০ বছর আগে বগুড়া শহরের কালীতলা বিগবাজার নামক স্থানে অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে লোভনীয় লভাংশের প্রলোভন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদী সঞ্চয়, ডিপোজিট ও এফডিআর হিসেব খুলে টাকা জমা নেয়। এতে বাদিসহ প্রচুর গ্রাহক অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় ওই সমিতিতে টাকা রাখে।
মামলার বাদি সাবিনা আহম্মেদ ওই আসামিদের সহযোগিতায় ১ বছর মেয়াদী দুটি এফডিআর হিসেবে টাকা জমা রাখেন। পরে গ্রাহকদের জমানো টাকার মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনিসহ অন্যান্য গ্রাহকরা তাদের টাকার দাবি করলে সমিতির লোকজন টাকা না দিয়ে তাদের টাকা জমার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে এ বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য গ্রাহকরা ছুটে এসে টাকা প্রদানের দাবি জানালে সমিতির লোকজন তাদের টাকা না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা ও সময় ক্ষেপন করতে থাকে।
তারই ধারাবাহিকতায় রোববার বেলা ১১টার দিকে শত শত গ্রাহক জড়ো হয়ে ওই কার্যালয়ে গিয়ে তাদের টাকা দেয়ার দাবি এবং বাদি তার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদানের দাবি জানালে সমিতির লোকজন তাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ওই তিনজনকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও বাঁকীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলো, সুমনা আক্তার (৪৫) রোজিনা বেগম (৩৫), মো: রাহাত (৩৭), তৌফিক হাসান (৩৩) জাহিদুল ইসলাম (৩৬)।
এদিকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ওই সমিতির শত শত গ্রাহক অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা’র সামনে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। তবে সমিতির বেশিরভাগ গ্রাহকই মহিলা হওয়ায় তাদেরকে সহজেই ভূল বুঝিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছে বলে কয়েকজন গ্রাহক জানান।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আমন্ত্রণ/এজি


































