বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কুয়াশা ভেদ করে সুর্য্যরে দেখা মিলছে কদাচিৎ। শীতের প্রকোপ বাড়ায় কদর বেড়েছে লেপ, তোষক ও গরম কাপড়ের। এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। কেউ নগদ টাকায় আগে থেকে তৈরি করা লেপ কিনে নিচ্ছেন। কেউ বা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আবার পুরোনো লেপ নতুন করে ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বগুড়ার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ।
বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কারিগরদের ব্যস্ততা সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়। দোকানিরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন, নিচ্ছেন অর্ডার। কারিগররা তাদের নিপুণ হাতে সুই সুতো নিয়ে করছেন কাজ, তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ-তোষক।
বগুড়া রেলঘুমটি এলাকায় লেপ-তোষক তৈরির ১০ থেকে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মযজ্ঞ চলছে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এ বছর বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম ৫৫-৬৫ টাকা, তোষকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪৮-৫৫ টাকা।
এ ছাড়া প্রতি কেজি কার্পাস তুলার দাম ২২০-২৫০ টাকা, পোলি তুলার দাম ১৮০-২০০ টাকা, উলের দাম ১০০-১২০ টাকা ও প্রতি কেজি জুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা করে। বছরের তুলনায় প্রায় সব প্রকার তুলা কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ বছর এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে, তোষক বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ২৮০০ টাকার মধ্যে।
রেলঘুমটি এলাকার লেপ-তোষকের দোকানের পলাশ রহমান বলেন, কয়দিন আগেও তেমন কাজ ছিল না। তবে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে কাজের চাপ বাড়ছে। এখন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেও মহাজনের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। এবার গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি।
কারিগর হেদায়ত হোসেন বলেন, আমি ১০ বছর থেকে এ কাজ করে আসছি। প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের লেপ-তোষক তৈরির কাজ চলে।
কারিগর আব্দুর বারিক মুন্সী বলেন, একটি লেপ তৈরি করলে আকারভেদে ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা এবং তোশক তৈরি করতে পারলে প্রতিজন ১৫০-৩০০ টাকা মজুরি পান।
শহরের মাটিডালি এলাকার গৃহবধূ ক্রেতা তানজিম হেলেনা বলেন, এবারে বেশি শীত হতে পারে। তাই আগে লেপ তৈরির জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের জন্য ২টি লেপ বানিয়ে নিচ্ছি। এতে মোট খরচ পড়েছে ৪ হাজার ২০০ টাকা।
আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলায় শীত অনুভ‚ত না হলেও রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































