বগুড়া ব্যুরো
বগুড়ায় মুষলধারে বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের সাতমাথা, বড়গোলা, টিনপট্টি, বাদুরতলা, নামাজগড় ও কলোনী, গোয়ালগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে রয়েছে। বড়গোলা এলাকার বাসিন্দা টুটুল রহমান ও সানোয়ার হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় গলিতে পানি ঢুকে অনেক বাড়িঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে।
স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অনেকেই রিকশা না পেয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। আসাদুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, “বৃষ্টি হলেই রিকশা পাওয়া যায় না। আবার যেটুকু পাওয়া যায়, সেটার ভাড়া দ্বিগুণ। তাই বাধ্য হয়েই হাঁটতে হচ্ছে।”
শহরের প্রেসপট্রির ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই ভারী বর্ষণে শহরের চকযাদু ক্রস লেন, বাদুরতলা সড়ক, প্রেসপট্টি লেন, বড়গোলা লেনসহ সব সড়ক হাঁটুপানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এসব সড়কের পাশে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেউ খুলতে পারেননি, সকাল থেকে বন্ধ ছিল।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে আজ সকাল থেকে শহরের রাস্তাঘাট, মার্কেট, বিপণিবিতান—সবখানেই মানুষের আনাগোনা কম ছিল। তবে বেলা একটার দিকে বৃষ্টি কমলে জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বগুড়ার উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কবীর জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে এবং আগামী দুই দিনও এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক মাসুম আলী বেগ বলেন, বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। এ সমস্যা নিরসনে পৌরসভার প্রায় এক হাজার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে দুই হাজার কিলোমিটার পাকা নালা দরকার। কিন্তু পানিনিষ্কাশনের জন্য অর্ধেকও নালা নেই। এসব নালা পরিষ্কার রাখতে পৌরসভা থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও পুরোনো সড়কে পানিনিষ্কাশনের নালা নেই। নতুন নালা নির্মাণ ও সংস্কারে অর্থ প্রয়োজন। শহর সাজাতে মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান সুপ্রন সাধারণ সম্পাদক কেজি মোস্তাফা বলেন, শহরের পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলেই গোটা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। উন্নয়নের উদ্যোগ নেই। ভারী বর্ষণ হলে ময়লা-আবর্জনায় ভরা নালার নোংরা পানি বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ে, দুর্গন্ধ ছড়ায়। পথঘাটে চলাচল করা দায় হয়ে পড়ে। এ শহর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নেই। পরিকল্পিত নালা নির্মাণ ও পুরোনো নালা সংস্কার ছাড়া জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীর মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ
জুলাই ১৫, ২০২৫


































