বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ইকবাল হোসেন (২৪) হত্যায় জড়িত সন্দেহে পাম্পটির সেলসম্যান রতনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রতন পলাতক ছিল। এরপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকা থেকে রাত আটটায় তাকে আটক করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।আটককৃত রতন বগুড়া শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার চান মিয়ার ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, টাকা-পয়সা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বগুড়ার ইনচার্জ ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতরাত রাত ৮ টার দিকে তাকে ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন স্বীকার করে যে, শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে তেল পাম্প থেকে তেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে রতন ইকবালকে হত্যা করে। রতন আরও স্বীকার করে যে, সে এবং ইকবাল রাতের শিফটে কাজ করতো।
ইকবাল পাম্প থেকে প্রতিদিনই তেল চুরি করে বিক্রি করতো। আর এই তেল চুরির করতে গিয়ে ইকবাল মালিকের কাছে ধরাও পড়েছিল। কিন্তু দোষ না করেও তেল চুরির অপবাদ তাকেই দিয়েছিল ইকবাল। মালিক তাকে ভুল বুঝেছিলেন। এ ঘটনায় পাম্পের মালিক তাকে চড় মেরেছিলেন। এতে সে অপমানিত হয়। আর এতেই তার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে কারণে ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সে শনিবার রাতে ইকবালকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়েছিল।
এদিকে এই হত্যাকান্ড নিয়ে ৫ মিনিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যায় রতন একাই হাতুরি দিয়ে ২৩ বার কুপিয়ে হত্যা করে।ঘটনার সময় রাত ২টা ৩১ মিনিট থেকে ২টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ঘটে।
নিহত ইকবাল হোসেন সিরাজগঞ্জের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি এই ফিলিং স্টেশনে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় এ ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি। স্বজনরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































