বগুড়া ব্যুরো :
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এদিকে পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেবেন। মন্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার ৭২৮টি মন্ডপের মধ্যে ৪৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ পূজামন্ডপ রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। গত বছর জেলায় ৬৮৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪২টি। গত বছর অতি ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপ ছিল ১০৪টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১০৬টি। তবে পূজার সংখ্যা বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপের অনুপাত কমেছে এবার।
জেলা পুলিশের উপজেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বগুড়া সদর উপজেলায় ১১৯টি মন্ডপের মধ্যে ২৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। শাজাহানপুরে ৪৮টির মধ্যে কোনোটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। তবে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। শিবগঞ্জে ৬৪টির মধ্যে ৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ।
গাবতলীতে ৮৪টি মন্ডপের মধ্যে ১০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ। সোনাতলায় ৪৯টির মধ্যে ১২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ।
আদমদীঘিতে ৬৯টির মধ্যে ১৪টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপ রয়েছে। দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি মন্ডপের মধ্যে ৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। কাহালুতে ৪২টির মধ্যে ৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। নন্দীগ্রামে ৪৮টির মধ্যে ৪টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপ রয়েছে। শেরপুরে ৯৪টি মন্ডপের মধ্যে ১৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ও ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ। ধুনটে ৩৪টির মধ্যে ৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১২টি বুঝুঁকিপূর্ণ। সারিয়াকান্দিতে ২৮টি মন্ডপের মধ্যে ৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেবেন। মন্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর দত্ত জানান, পূজা উদযাপনের জন্য প্রতিটি মণ্ডপে চলছে সাজ,সাজ রব। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পূজামন্দিরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোন ধরনের অবনতি না ঘটে তার জন্য নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু রায় নির্মল বলেন, জেলায় প্রতিটি মন্ডপে কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, পূজামন্ডপগুলোতে নিরাপত্তায় পুলিশ, এসআরবি ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।
আমন্ত্রণ/এজি
বগুড়ায় দুর্গাপূজার ৪৩৪ মন্ডপ ঝুঁকির্পূণ
অক্টোবর ১২, ২০২৬
































