বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ায় চুরি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মুলে আসামী ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। এতে এক এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এক নারীসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেন।
পুলিশ জানায়, শাজাহানপুর থানার একটি চুরির মামলার তদন্তে জেলার চকসূত্রাপুর হাড্ডিপট্টি এলাকার রনি (৩০) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। অভিযানটি পরিচালনা করেন এসআই স্বপন মিয়া। দলে ছিলেন এসআই ফজলুল হক, এএসআই হাসান আলী, এএসআই গোলাম কিবরিয়া এবং কয়েকজন কনস্টেবল।
রনিকে আটক করার পর তিনি ডাক-চিৎকার শুরু করেন। তখন পলাতক আসামি শাপলা খাতুন ও তাঁর স্বামী আশিকের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এএসআই হাসান আলী, কনস্টেবল মোদাসের হোসেন ও কনস্টেবল সজীব হোসেন আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য, হামলার সময় শাপলা খাতুন বটি দিয়ে এএসআই হাসানকে কোপানোর চেষ্টা করেন। পরে কনস্টেবল মোদাসেরকে একইভাবে কোপাতে গেলে তিনি বাঁ হাত দিয়ে ঠেকিয়ে গুরুতর জখম হন এবং কনুইয়ের নিচে কেটে যায়। কনস্টেবল সজীবকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তাঁর পিঠের বাম পাশে ফোলা জখম হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), সদর থানার ওসি ও ডিবি ইনচার্জের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় রনি, শামীম (৬০), ইস্রাফিল হোসেন (৪০), কবির হোসেন (২৪), বেহুলা (৩৫) ও রুবি বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমাদের দলের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পুলিশের ওপর প্রাণঘাতি হামলার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।”
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির জানান, চুরির মামলার আসামি রনিও একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, রনিকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































